ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা

প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মারজিয়ার অভিযোগ

অফিস সহকারির ডাবল ক্লিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন ভঙ্গ!


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৬ জুন, ২০২৫ সময় : ৭:৪৪ পিএম

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধি:

নাম মারজিয়া বেগম। কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার বাঁশগাড়ি গ্রামে অবস্থিত জেড. রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজের  ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন।

 খোঁজ নিয়ে জানাযায়, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ে ফরমপূরণের জন্য অফিসে যোগাযোগ করে দুই হাজার পাঁচশো টাকা জমা দেন পরীক্ষার্থী মারজিয়া বেগম। পরীক্ষার প্রস্তুতি পর কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে জানতে পারলেন তাঁর এডমিট কার্ড বোর্ড থেকে আসেনি। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে কর্তৃপক্ষ বোর্ড থেকে এডমিট কার্ড এনে দেয়ার আশ্বাস দেন ওই শিক্ষার্থীকে। পরে ওই কলেজের অফিস সহকারি মো. শফিকের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র দেওয়া আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষা আগের দিন মারজিয়াকে জানানো হয় ফরম পূরণে ভুলের কারণে এডমিনকার্ড ইস্যু হয়নি।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারজিয়া বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা দেন অফিসে। কিন্তু কলেজের অফিস  সহকারির ভুলের কারণে আমার প্রবেশপত্র আসেনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা ১মপত্র পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারিনি এডমিড কার্ড না পাওয়ায় সে জানায়, টেস্ট পরীক্ষায় .০৭ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েও ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় জীবন থেকে একটি বছর ঝরে গেলো। এবারের পরীক্ষায় জিপিএ- পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি ছিলো, অথচ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে আমার রঙ্গিন স্বপ্ন অংকুরেই বিনিষ্ট হয়ে গেলো।


এঘটনার জন্য কলেজ প্রধানসহ /৭জন শিক্ষক বাড়ি এসেছেন শান্তনা দিতে। এবং আগামী বছর বিনা খরচে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে আশ্বস্থ করেন। শিক্ষার্থী মারজিয়া বেগমের বাবা স্বপন মিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূলের কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তার মেধাবী কণ্যা। তাদের ভুলের কারণে কলেজের শিক্ষকরা আমার বাড়িতে এসে ভুল স্বীকার করায় আইনগত পদক্ষেপ থেকে ফিরে আসছি।

 এই ঘটনায় ওই কলেজের অফিস সহকারি মো.শফিক জানান, ফরম পূরনের সময় ভুল বশতডাবল ক্লিককরায় মারজিয়ার ফরমটি বাতিল হয়ে যায়। সেজন্যই তার এডমিটকার্ড আসেনি। এটি আমাদের ভূলের কারণেই সে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এমন ধরনের ভুল এটাই প্রথম। এবিষয়ে ভবিষ্যতে সর্তকতা অবলম্বন করবেন বলে জানান।


বিষয়ে জেড. রহমান প্রিমিয়ার ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ জানান, এইচএসসি পরীক্ষার ফরমপূরণ করতে গিয়ে অফিস সহকারি কম্পিউটারে ডাবল ক্লিক করায় ফরমটি বাতিল বাতিল হয়ে যাওয়ায় আমরা শিক্ষা বোর্ডে একাধিককবার যোগাযোগ করেও বিষয়টির সমাধান করতে পারেনি। ফলে আমাদের শিক্ষার্থী মারজিয়া এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এই দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষের বলেই তিনি স্বীকার করেন।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন বলেন, পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী মারজিয়া বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হলে। সেই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

  বিষয়ে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস.এম কামাল উদ্দিন হায়দার মুঠোফোনে বলেন, বোর্ড থেকে এডমিটকার্ড প্রদান করার সময়ই যদি সাথে সাথে পরীক্ষার্থীদের মাঝে এডমিটকার্ড বিতরণ করা হতো তাহলে তখনই ভুলটি ধরা পরতো। তখন ওই ভুলের জন্য সংশোধনের সুযোগ থাকতো। সমস্যা হচ্ছে এডমিট কার্ড গুলো পরীক্ষার কয়েকদিন আগে বিতরণ করে থাকেন। যার কারণে এডমিটকার্ড সংক্রান্ত কোনো ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ থাকে না। তিনি বলেনমারজিয়ার এডমিটকার্ড না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অফিস সহকারি আমার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি।

আকাশজমিন/আরাআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর