ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

পিআর পদ্ধতি কী? বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ জুন, ২০২৫ সময় : ৪:৪২ পিএম

বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে অনেকেইপিআরবা Proportional Representation পদ্ধতির কথা বলছেন। পদ্ধতিতে প্রত্যেক দল তাদের প্রাপ্ত মোট ভোটের অনুপাতে সংসদে আসন পায়। একক প্রার্থী নয়, এখানে মূলত দলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। ফলে কোনো দলের ভোট হারিয়ে যায় না, বরং তার প্রতিফলন সরাসরি সংসদে দেখা যায়।

পিআর পদ্ধতি কী?

পিআর পদ্ধতিতে (Proportional Representation) ভোটগ্রহণ হয় দলভিত্তিক। যে দল মোট ভোটের যত শতাংশ পাবে, সে দল তত শতাংশ আসন পাবে। এতে একটি এলাকার পরিবর্তে পুরো দেশকেই একটি একক ভোট এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এর ফলে ছোট দল, সংখ্যালঘু প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

 পিআর পদ্ধতির সুবিধাসমূহ

. সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়:

ছোট দলগুলোও পার্লামেন্টে জায়গা পেতে পারে, যার ফলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বাড়ে।

. ভোটের সঠিক প্রতিফলন ঘটে:

কোনো ভোটঅপ্রয়োজনীয়হয় না। যার ফলে ভোটারদের মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয়।

. সংখ্যালঘু ভিন্নমতের প্রতিনিধিত্ব বাড়ে:

এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘুরা তাদের কণ্ঠস্বর সংসদে তুলে ধরতে পারেন।

. রাজনৈতিক আপস সংলাপ উৎসাহিত হয়:

যেহেতু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কঠিন, তাই দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন সমঝোতার প্রবণতা বাড়ে। রাজনৈতিক মেরুকরণ কমে আসে।

পিআর পদ্ধতির চ্যালেঞ্জ ঝুঁকি:

. সরকার গঠনে জটিলতা:

অনেক সময় কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে না। জোট গঠন কঠিন হয়ে পড়ে।

. নীতিনির্ধারণে ধীরগতি:

একাধিক দল মিলে সরকার চালালে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়।

. রাজনৈতিক অস্থিরতা:

জোট ভেঙে গেলে বারবার নির্বাচন দিতে হয়। এতে স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হয়।

. স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়:

নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের সমস্যা সরাসরি সংসদে না পৌঁছাতে পারে।

 বিশ্বের কোথায় কোথায় পিআর পদ্ধতি চালু আছে?

বিশ্বের ৯১টি দেশে বর্তমানে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশসহ ইউরোপ অন্যান্য উন্নত দেশে এই পদ্ধতি জনপ্রিয়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে মতবিরোধ তীব্র। বিএনপি যেখানে এর বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান, সেখানে ছোট মাঝারি দলগুলো সংসদে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছে।

 ইউরোপ মহাদেশ: নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, জার্মানি (আংশিক)

এশিয়া মহাদেশ: ইসরায়েল, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল

আফ্রিকা মহাদেশ: দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া

লাতিন আমেরিকা: ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা

উত্তর আমেরিকা: আংশিকভাবে কানাডা

পিআর পদ্ধতিতে ইসরায়েল:

ইসরায়েল একটি ক্লাসিক উদাহরণ, যেখানে পুরো দেশই একক ভোট এলাকা। যে দল মাত্র .২৫% ভোট পায়, তারাও আসন পায়। এতে ছোট দলগুলো সবসময় সংসদে প্রবেশ করে। কিন্তু পদ্ধতির ফলে দেখা দেয় কিছু সমস্যাও

. দুর্বল জোট সরকার:

একক দল কখনোই সরকার গঠন করতে পারে না। প্রায়ই জোট ভেঙে যায়, ফলে ঘনঘন নির্বাচন হয়। (২০১৯-২০২২ সালে বার নির্বাচন!)

. ছোট দলের অস্বাভাবিক প্রভাব:

ছোট দলগুলোকিং-মেকারহয়ে উঠে, বড় দলগুলোকে জিম্মি করে তাদের দাবি আদায় করে নেয়।

. নীতিগত স্থবিরতা:

নানা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বড় সংস্কার নিতে দেরি হয় বা সম্ভব হয় না।

. ধর্মীয় চাপ:

ধর্মীয় ছোট দলগুলো আধুনিকতা নারী অধিকারের বিরোধিতা করে সরকারে চাপ তৈরি করে।

. জনগণের আস্থা হ্রাস:

ঘনঘন জোট পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতায় জনগণের মধ্যে আস্থা কমে।


বাংলাদেশের জন্য কতটা উপযোগী?

বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক আস্থার সংকট রয়েছে। অনেক দল ভোটে অংশ নেয় না, কেউ কেউ অংশ নিলেও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এমতাবস্থায় পিআর পদ্ধতি কিছু সমাধান দিতে পারে যেমন: অংশগ্রহণমূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু ছোট দলের কণ্ঠস্বর শোনা, রাজনৈতিক মেরুকরণ কিছুটা কমানো।

তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো একক আধিপত্য ব্যক্তি-নির্ভরতায় গড়ে উঠেছে। পিআর পদ্ধতি চালুর আগে প্রয়োজন- রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা, জোট গঠনের বাস্তব প্রস্তুতি, স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা।

পিআর পদ্ধতি নিঃসন্দেহে একটি অংশগ্রহণমূলক ন্যায্য নির্বাচন পদ্ধতি। তবে এটি কোনো যাদুর কাঠি নয়। সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সাংবিধানিক সংস্কার জনসচেতনতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে আংশিকভাবে পিআর পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হতে পারে, যাতে করে ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই ন্যায্য নির্বাচনী কাঠামো গড়ে তোলা যায়।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর