সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 383
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের বেশীরভাগ ঘরেই মানুষ নেই, পালন করা হচ্ছে হাঁস, মুরগী, গরু ও ছাগল। আবার কোনটাতে ঝুলছে তালা। ২০১৮ সাল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দুই বছর আগে ঘর বুঝিয়ে দেন সুবিধা ভোগীদের। সরেজমিনে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে, ঘরে মানুষ নেই। তালা বদ্ধ ঘরে মানুষ থাকার কোন আলামত পাওয়া যাচ্ছে না।
তাড়াশ
উপজেলার ৮ ইউনিয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পে মোট ৩৫৬ টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে দেশিগ্রাম ইউনিয়নের
বড়মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি মৌজায় ৪৮টি ,শ্যামপুর মৌজায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩৫টি,
তালম ইউনিয়নের গুল্টা মৌজায় খ্রিষ্টান মিশনারিপাড়ায় ১৩টি, গুল্টা কলেজ পাড়ায় ৬টি ঘর
রয়েছে। অন্যগুলো বিভিন্ন ইউনিয়নের নানা এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
কয়েকটি
আশ্রয়ন ঘুরে দেখা গেল সব খানের অবস্থা প্রায় একই, ঘর আছে, মানুষ নেই। আশ্রয়ন প্রকল্পে
যাদেরকে ঘর দেওয়া হয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই নিজস্ব বাড়ি আছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে
জানা যায়, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক সুবিধা ও
অর্থের বিনিময়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর দেওয়া হয়েছে। ভূমি হীনদের অভিযোগ, মৌখিক
ও লিখিতভাবে আবেদন করলেও তাদেরকে ঘর দেওয়া হয়নি। ঘর-বাড়ি না থাকায় অনেকেই মানুষের
বাড়িতে আশ্রিত হয়ে থাকছেন আবার কেউ কেউ কাজের জন্য শহরের বস্তিতে স্বপরিবারে বসবাস
করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্থানীয়রা বলেছেন, বেশীরভাগ ঘরের মালিকরা পার্শ্ববর্তী
ঘরের মালিকদের তাঁদের ঘর দেখাশুনার দায়িত্ব দিয়ে বাড়িতেই থাকেন। যাদেরকে ঘরের দায়িত্ব
দিয়েছেন তারা হাঁস, মুরগী, গরু ও ছাগল লালন পালন করছেন মানুষ বিহীন এসকল ঘরে।
দেশীগ্রাম
ইউনিয়নের কাটাগাড়ি গ্রামের আজাদুল ও জাহিদুল আশ্রয়নে ঘর পেলেও এখনো ঘরের দলিল বুঝে
পাননি। ভূমিহীন বড় মাঝদক্ষীনা গ্রামের মোকবেল হোসেন বলেন, আমার নিজের কোন বাড়ি ঘর নেই
অন্যের বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছি। আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর চেয়েও ঘর পাইনি।
আশ্রয়ন
প্রকল্পে ঘর থাকা সত্বেও বাড়িতে থাকার কারন জিজ্ঞেস করলে হেলাল উদ্দিন সরকার বলেন,
আমার হাঁস-মুরগি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে আছে, মাঝে মধ্যে যাওয়া আসা করি।
এ
প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, ভূমিহীনরা আমার
কাছে অভিযোগ দিলে আমি বিষয়টি দেখবো। বাড়ি থাকার পড়েও যারা আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন
আবার বাড়িতে থাকেন এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন/আরআর