ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পর্যটন কেন্দ্র,নেই পর্যটক,গুনতে হচ্ছে লোকসান


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৫:০৮ পিএম

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

পর্যটনের এখন ভরা মৌসুম চলছে তবু নেই পর্যটক। নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে নির্মাণের পর থেকেই লোকসানের কবলে পড়েছে আদর্শনগর পর্যটন কেন্দ্রটি। উদ্বোধনের পর থেকেই বছরজুড়েই লোকসান হচ্ছে। অবস্থা এমন শোচনীয় যে, এখানে কর্মরত পর্যটন কর্পোরেশনের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা তাদের হেড অফিস থেকে এনে পরিশোধ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ও সাবেক এমপি সাজ্জাদুল হাসান আদর্শনগর পর্যটন কেন্দ্রের নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যটক ভবনটি নির্মাণে কাজ শুরু করে ঢাকার বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স সামস-ইঞ্জিনিয়ারিং। পরে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বরে এর উদ্বোধন করা হয়। মোহনগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ একর জমির ওপর আদর্শনগর পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সে থেকেই লোকসান গুনছে পর্যটন কেন্দ্রটি।

সরজমিনে ঘুরে দেখে গেছে, এখানে কোনো পর্যটক নেই। এখানে ৪০ আসনবিশিষ্ট মাল্টিকুইজিন রেস্তোরাঁ, বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাত কক্ষ বিশিষ্টসহ বাউন্ডারি ওয়াল এবং রাতে দেখা যায় ওয়ালের উপরে বিলাসবহুল জলমলে বৈদ্যুতিক লাইট আর পর্যটন কেন্দ্রের ভবন ছাড়া আকর্ষণীয় আর কিছু নেই। এমন কি আয়ের উৎস বাড়ানোর জন্য এখানকার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ভবনের সামনের জায়গা কতৃপক্ষ লিজ দিয়েছেন। এতে প্রতি কৃষকদের কাছ থেকে ১৫শ টাকা করে নিয়েছেন কতৃপক্ষ। এমন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন কৃষক রয়েছেন। কৃষকরা কেন্দ্রেটির ভবনের সামনের জায়গা লিজ নিয়ে গরু,ছাগলের ঘাস ফলাচ্ছেন।

পর্যটন এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলার ১৬ কিলোমিটার দূরে জনশূন্য হাওরে নির্মিত কোটি টাকার এই ভবনকে পুরোপুরি অপরিকল্পিত উন্নয়ন বলছেন কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয়রা।


নেত্রকোণা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ,খালিয়াজুড়ি) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ছোট ভাই সাজ্জাদুল হাসানের গ্রামের বাড়ি আদর্শনগরে তৈরি করা হয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

যেখানে বর্ষাকালে উপজেলার ডিঙ্গুপোতা হাওরের পানি দেখতে গুটিকয়েক পর্যটক এলেও সারা বছরই থাকে জনমানব শূন্য। ফলে পর্যটন কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর থেকেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলতে হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটির। পর্যটন কেন্দ্রের হিসাবরক্ষক জাকির আহমেদ বলেন, পর্যটন কেন্দ্রটি গ্রামে হওয়ায় এখানে পর্যটক আসে কম।কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকেই লোকসানে চলছে।

 আদর্শনগর পর্যটন কেন্দ্রের ইউনিট ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, এখানে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর এখানে কিছুই পাওয়া যায় না। তদুপরি স্থানটি পর্যটন পরিবেশ উপযোগী নয়। এটি মোহনগঞ্জ সদরে নির্মিত হলে লোকসান গুনতে হতো না। এখানে প্রতিমাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হয়। আবার কোনো মাসে ১ লক্ষ্য টাকাও হয়।

প্রতি মাসে এখানকার ৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অন্যান্য খাতে দুই লক্ষ্য থেকে পনে তিন লক্ষ্য টাকা খরচ হয়। তবে আগে একটু বেশি খরচ হতো। আর সে খরচ হেড অফিস (পর্যটন কর্পোরেশন) থেকে আনতে হয়। পর্যটন কেন্দ্রের ভবনের সামনে মাঠ পতিত হয়ে পড়ে আছে। তাই এখানকার স্থানীয় দশ থেকে পনেরো জন কৃষকের কাছে জায়গা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এটি টুরিস্ট এরিয়ার উপযোগী না হওয়ায় এখানে পর্যটক কম আসে। কেন্দ্রটি পরিকল্পনায় ভূল হয়েছে। গ্রামে কী পর্যটকরা আসতে চায় নাকি।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন কেন্দ্রটি মোহনগঞ্জের কাছে হলে ভালো হতো। তাহলে হেড অফিস থেকে টাকা এনে বেতন দেওয়া লাগতো'না। এটি টুরিস্ট এরিয়াও না ভবিষ্যৎতেও পর্যটক আসারমত ব্যবস্থা দেখিনা। প্রথমত এখানের রাস্তা খারাপ। দ্বিতীয়ত এখানে গ্রামের ভিতরে এসে পর্যটকরা কি দেখবে? দেখার মত কিছু'তো থাকতে হবে।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর