টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥
প্রবাদ আছে যার শেষ ভালো তার সবই ভালো। কিন্তু সেই শেষটা ভালো হতে দিলেন না কিছু অসংস্কৃতির ধারক দর্শক। অশালীন দর্শকরা মাঠে বিচারক হয়ে রেফারির ভুলের খেসারত দিয়েছেন রেফারির গায়ে হাত তুলে! যা চরম অন্যায়! খেলার মাঠে রেফারি কিংবা আম্পায়ারের ভুল হতেই পারে। মানুষ মাত্রই ভুল হয়, তাহলে! তবে সেই ভুল মাত্রাতিরিক্ত হলে যা হয় সেটাই সুন্দর মিনি ফুটবল ফাইনালের পরিসমাপ্তির পথে কাঁটা হয়ে বিঁধল শামছুল হক স্মৃতি মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টে। রেফারী ও সহকারী রেফারির সমন্বয়হীনতার সুযোগে সুন্দর একটি ফুটবল ম্যাচের অসুন্দর পরিনতি দেখলেন প্রায় দুই হাজার দর্শকের মাঝে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু।
খেলাধুলা
হচ্ছে আমাদের জীবনে একটি প্রাণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন জায়গায়
থানা পর্যায়ে স্টেডিয়াম করেছিলেন এই খেলাধূলার জন্য। খেলাধুলা আমাদের শারীরিক গঠনকে
সুন্দর করে। সমাজকে সুন্দর করে। সমস্ত দূনীর্তি সমস্ত উপকর্ম, সমস্ত মাদক দূরে থাকে।
যুব সমাজ এই খেলাধূলার মাধ্যমে সমাজকে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা মাঠের খেলাধূলায়
এগিয়ে নিতে পারে। এই জাতিকে গড়ে তোলার জন্য
খেলাধূলায় মনোনিবেশ করাতে হবে এবং সামনের দিকে তখন এগিয়ে যাবে। এই টুর্নামেন্ট যাতে
প্রতি বছর আয়োজন করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে।
তিনি
আরো বলেন,আজ আমি যখন মাঠে প্রবেশ করি, তখন মনে হয়েছিলো আমি যে মাঠে প্রবেশ করতো পারবো
কখনও মনে হয়নি। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন। ১৮ আগষ্ট আমাদের মামলার
রায় হওয়ার কথা ছিলো। এই রায় হলে আমরা হয়ত আর
দুই থেকে তিন মাস বেঁচে থাকতে পারতাম। পরম করুনাময় আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমতে ফ্যাসিষ্ট
সরকারের পতন হয়েছে। আমরা মুক্ত হয়েছি।
আমাদের
সকলকে শপথ নিতে হবে বাংলাদেশের উপরে কিন্তু কালো থাবা এখনও লেগে আছে। আমাদের সকলকে
শপথ নিতে হবে, ষড়যন্ত্রকে উপড়ে ফেলতে হবে। আমরা একটি সুন্দর সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে
পারি। যে বাংলাদেশের চিন্তা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যে বাংলাদেশকে
এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যে বাংলাদেশের হাল ধরেছেন
প্রিয় নেতা তারেক রহমান।আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। সমস্ত প্রকার দূনীর্তি
চাঁদাবাজ সন্ত্রাস বর্জন করে একটি বাসযোগ্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শামছুল
হক সর্ম্পকে বলেন, শামছুল হক আমার অত্যন্ত আপনজন ছিলো। অত্যন্ত ঘনিষ্ট লোক ছিলো। টাঙ্গাইলের
একটি মাস্টারপ্লান ছিলো, মাস্টারপ্লান আছে। সেই মাস্টারপ্লানটি তৈরী করেছিলেন যখন শামছুল
হক পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই মাস্টারপ্লানের কার্যকারিতায় টাঙ্গাইল একটি সুন্দর
ও সার্থক শহরে পরিনত হয়েছে। শামছুল হক আজ আমাদের মাঝে নাই, তার স্মৃতি আমাদের মাঝে
থাকবে।”
টাঙ্গাইল
জেলা বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জননেতা দীর্ঘ ১৭ বছর কারা নির্যাতিত
সাবেক মন্ত্রী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস
সালাম পিন্টুর সৌজন্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা ফুটবল
এসোসিয়েশনের সভাপতি আলী ইমাম তপন দৃপ্ত প্রদক্ষেপে গন্ডগোলযুক্ত ফুটবল ম্যাচটি টেকনিক্যাল
কমিটির সাথে আলোচনা করে উপমৃত্যু হতে দেননি। তবে গল্ডগোলের পর আর খেলা হয়নি। খেলায়
লিটন বর্মনের দেওয়া একমাত্র গোলে এগিয়ে থাকা সুপ্রভাত রাইটার্সকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষনা
করা হয়। সুপ্রভাত রাইটার্স চল্লিশোর্ধ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের টানা তিন বারের চ্যাম্পিয়ন
হলো।
টাঙ্গাইল
পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শামছুল হকের সন্তান মাহমুদুল হক সানুর আহবায়নে জেলা
ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আলী ইমাম তপনের সভাপতিত্বে খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন।
এ সময় জামালপুর জেলার ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রেদুয়ান আহমেদ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামান
শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির নেতা আবুল কাশেম, মিজানুর রহমান উজ্জল উপস্থিত ছিলেন।
মাঠের
চারপাশে প্রায় দুইহাজার দর্শকের মাঝে খেলার শুরু থেকেই সুপ্রভাত রাইটার্স ও পার্কবাজার
সমবায় সমিতির খেলোয়াড়রা আক্রনান্তক ভাবে খেলতে থাকে। খেলার ১২ মিনিটের সময় সুপ্রভাত রাইটার্সের নারায়নগঞ্জ
থেকে আগত অতিথি খেলোয়াড় মেহেদী হাসান তপুর শট পার্কবাজারের গোলরক্ষকের হাতে লাগলে রেফারী
সাখাওয়াত হোসেন পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সুপ্রভাতের স্টাইকার লিটন বর্মন পেনাল্টি থেকে
গোল করে(১-০) দলকে এগিয়ে নেয়। খেলায় পিছিয়ে পড়ে পার্কবাজার একচেটিয়া আক্রমন করে খেলতে
থাকে। কিন্তু সুপ্রভাতের রক্ষণভাগকে টলানো যায়নি।
খেলার শেষ দিকে পার্কবাজারের আক্রমনে জটলা থেকে সুপ্রভাতের
গোলরক্ষকের হাতে হান্ডবল এবং পেনাল্টির দাবীতে
পার্কবাজারের খেলোয়াড়রা রেফারীকে ঘিরে ধরলে রেফারী সুপ্রভাতের পক্ষে ফ্রি কিকের নিদের্শ
দিলে খেলায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মাঠের বাইরে থেকে কিছু উত্তেজিত দর্শক রেফারীর
গায়ে হাত তুলে এবং পেনাল্টির দাবী জানান। পার্কবাজার সমিতির খেলোয়াড় বিল্টু ও মামুন
মিয়া জানান তারা পরিস্কার পেনাল্টি পেয়েছিলেন। সহকারী রেফারী হারুন অর রশীদ পেনাল্টির
নিদের্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সহকারী রেফারীর কথামত পেনাল্টি না শুনে ফ্রি কিক দেওয়া মাত্র মাঠে উত্তেজনা থেকে
গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়। গোলযোগের সময় কমিটির
সদস্য নয়, সাধারণ কিছু দর্শকরাই এগিয়ে এসেছেন রেফারীদের বাঁচাতে। খেলায় রেফারীর
সিন্ধান্তই চুড়ান্ত হয় এটা সবার জানা কথা। তারপরও
খেলার
ফল শেষ পর্যন্ত মাঠে নয় টেবিলে মীমাংসা হয়। খেলার ছিল অন্তিম মুহুর্ত। রেফারীর গায়ে
হাত তোলা এবং রেফারীর সিন্ধান্ত না মেনে মাঠে গন্ডগোলের কারনে টেকনিক্যাল কমিটি সিন্ধান্তে
একগোলে এগিয়ে থাকা সুপ্রভাত চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় লিটন বর্মন
এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় সুপ্রভাতের অধিনায়ক ইউসুফ আলী খান।
১৭টি
দল নিয়ে চল্লিশয়োর্ধ ফুটবলার নিয়ে গ্রুপ ভিত্তিক টুর্নামেন্ট ২০ জুন শুরু হয়েছিলো।
দলগুলো হলো- শতায়ু অঙ্গন, সোনালী সকাল ক্রীড়া সংঘ, আরামবাগ ক্লাব, শুভ সকাল সংঘ, সুপ্রভাত
রাইটার্স, হ্যালিপ্যাড লায়ন্স, হ্যালিপ্যাড টাইগার্স, ফতেপুর পল্লীমা সাংস্কৃতিক সংসদ,
দেহগড়ি শরীরচর্চা ক্লাব, নুরা পরিবার, সুপ্রভাত জুনিয়র, পার্ক বাজার সমবায় সমিতি, ভাসানী
ক্লাব, টাইগার সুলতান স্পোটিং ক্লাব, সৈয়দ জালাল ক্লাব, সুপ্রভাত কিংস ও অফিসার্স ক্লাব
টাঙ্গাইল।
খেলার
ধারাভ্যষ্য ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন অনীক রহমান বুলবুল ও মোঃ
আলীম।
ফাইনালে
যারা খেলেছেন তারা হলেন- সুপ্রভাত ক্লাবঃ নুর আলম, ইউসুফ আলী খান(অধিনায়ক), মাসুদ,
মেহেদী হাসান তপু, লিটন বর্মন, রনি, ডালিম, আরিফ আকন্দ, সোহেল ও সুশান্ত। পার্কবাজার
সমবায় সমিতিঃ মামুন, বিল্টু, সাব্বির,মিলন, শিবলু, টুটুল, মামুন মিয়া, হান্নান, শিমুল।
রেফারীঃ সাখাওয়াত হোসেন,হারুনুর রশীদ ও জামিল
হোসেন।
আকাশজমিন/আরআর