ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

সিরাজগঞ্জে তিলের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২১ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৮:৩৭ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলসহ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তিল চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে, ছাড়িয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রাও। অনেক স্থানে তিল কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। জানা গেছে, এক সময় ভোজ্যতেলের অভাব মেটাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা তৈল জাতীয় ফসল সরিষা, তিসির সঙ্গে ব্যাপকহারে তিল চাষ করত।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ভোজ্য তেল হিসেবে বিদেশ থেকে পামঅয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানি শুরু হয়। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ও সহজে ভোজ্য তেল পাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলে সরিষা, তিসি, সয়াবিন, তিল ইত্যাদি তৈল জাতীয় ফসলের আবাদ কমতে থাকে। তবে এখনও সরিষার তেলের কদর থাকায় স্বল্প পরিসরে হলেও সরিষা ও তিলের আবাদ হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে তিলের উচ্চ ফলনশীল নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তিল চাষের প্রতি কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের ফলে তিল চাষের ব্যাপারে আবারও নতুন করে ভাবতে শুরু করে। ফলে গত কয়েক বছর ধরে তিলের আবাদ বাড়তে শুরু করেছে এই অঞ্চলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবছর জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৭ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তিল চাষাবাদ অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষক লক্ষমাত্রার চাইতে অধিক পরিমান জমিতে চাষ করেছে। এসব তিলের মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড বারি ১, বারি ২, বারি ৩ এবং দেশিও জাতের তিল। এ চাষাবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া উল্লাপাড়া, তাড়াশ, কামারখন্দ ও রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষাবাদ হয়েছে।

এছাড়া খাল, বিল ও নদীর পাড়েও দেশি তিলের চাষাবাদ হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই এ দেশি জাতের তিল ফুলের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে হাইব্রিড তিল চাষাবাদের ফলন ভালো হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা এবার প্রতিবিঘা জমিতে ৩ থেকে ৪ মণ তিল উৎপাদনের আশা করছেন। তবে চরাঞ্চলে হাইব্রিড তিলের উৎপাদন বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার তিল চাষাবাদ বেশি হয়েছে এবং উৎপাদনও বেশি হবে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এ লাভজনক চাষাবাদে কৃষকদের জমি পরিদর্শন করে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

তিল কাটা শুরু হয়েছে। বাজরও জমে উঠেছে।তিল ব্যবসায়ীরা হাট বাজার থেকে নতুন তিল ক্রয় শুরু করছে।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বর্তমান বাজরে প্রতি মন তিল ৪ থেকে ৫ হার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চৌহালী উপজেলার কৃষক র‌ফিক জানান, তিল থেকে শুধু তেলই হয় না। এ তিল দিয়ে চাউলের আটা, চাউল ও গুড় অথবা চিনি সহযোগে নানারকম পিঠা নাড়ু, পায়েস তৈরি হয়। এই তিল দিয়ে এলাকায় তিলের খাজা তৈরি হয়। আর গ্রামাঞ্চালের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে এই তিলের খাজা অত্যন্ত লোভনীয় একটি খাবার। গ্রাম-বাঙলার মানুষ আজও বিশ্বাস করে ভোজ্য তেল হিসেবে তিলের তেল খুবই উপকারী। মাথা ঠান্ডা রাখতে তিলের তেলের জুড়ি নেই। তিলের খৈল গবাদি পশুর খাদ্য, মাছের খাদ্য ও সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আ. জা. মু. আহসান শহীদ বলেন, খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় চলতি বছর জেলায় ব্যাপক তিলের চাষ করা হয়েছে। তিল চাষাবাদে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হয়। তিল চাষাবাদে কৃষকদের দিন দিন আগ্রহ বারছে। তিল গাছের যেসব পাতা জমিতে পড়ে তা পচে মাটির সঙ্গে মিশে সবুজ সারের কাজ করে এতে জমির প্রচুর উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি পায়।বর্তমানে বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর