ভৈরব প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সিজারের সময় এক প্রসূতি নারীর মূত্রনালি কেটে ফেলার অভিযোগ ডাক্তার হরিপদ দেবনাথের বিরুদ্ধে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে বিছানায় কাতরাছে ভুক্তভোগী ওই প্রসূতি নারী। ভুক্তভোগী নারীর নাম মেঘলা আক্তার (২৮)। সে শহরের ঘোড়াকান্দা গ্রামের মো: শাহ আলমের কন্যা। এবং অভিযুক্ত ডাক্তার হরিপদ দেবনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক গাইনি সার্জন ছিলেন। বর্তমানে তিনি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিশোরগঞ্জে কর্মরত।
এ
বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এবং
স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালককে অনুলিপি দেয়া হয়।
২০২০
সালের ২৪ আগষ্ট, ভৈরব
শহরের কমলপুরস্থ ট্রমা জেনারেল হাসপাতালে সিজারের সময় এ ঘটনা
ঘটে। ওই ভুল চিকিৎসার
কারনে দীর্ঘ ৫বছর ধরে মেঘলা
আক্তার অসুস্থতায় ভুগছেন এবং তার জীবন
মারাত্মক সংকটের মধ্যে বিছানায় কাতরাছে।
এঘটনায়
২৫ জুলাই, গত শুক্রবার বিকেল
৫টায় অভিযুক্ত ডাক্তার হরিপদ দেবনাথের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি, বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে
সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের
লোকজন। এসময়
উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী নারীর পিতা আলম মিয়া,
মাতা আসিয়া বেগম ও ছোট
ভাই দিপু মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ
সম্মেলন ভুক্তভোগীরা জানান, শহরের বেসরকারি ট্রমা জেনারেল হাসপাতালে সিজার করাতে এসে ডাক্তার হরিপদের
ভুল চিকিৎসার শিকার হয় মেঘলা আক্তার।
২০২০ সালের আগষ্ট থেকে এপর্যন্ত সেই
সমস্যায় ভুগছেন। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের গাইনি সার্জন ডা: হরিপদ দেবনাথ
ওই প্রসূতি নারীর সিজার অপারেশন করেন। অপারেশনের সময় রোগীর মুত্রনালি
কেটে ফেলেন এবং প্রস্রাবের বিভিন্ন
নালগুলো এলোমেলো করে দেন। বিষয়টি
ভুক্তভোগীরা তখন বুঝতে পারেনি।
সিজারের পর থেকে প্রস্রাব
ও ব্যাথার সমস্যা নিয়ে বারবার ডা:
হরিপদ দেবনাথের সাথে যোগাযোগ করেন।
ওই চিকিৎসক তখন রোগীকে ব্যাথার
ট্যাবলেট ও ডোজ লিখে
দেন। কিন্তু তিনি মূত্রনালি কাটার
বিষয়টি রোগীর স্বজনদের কাছে গোপন করেন।
সরল
বিশ্বাসে রোগীকে নিয়ে ওই চিকিৎসকের
কাছে বছরের পর বছর ধর্না
দিয়েও কোন প্রকার সমধান
না পেয়ে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,
ভৈরব ও ঢাকাসহ অসংখ্য
চিকিৎসকের কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা
করেও সমাধান না পেয়ে সর্বশেষ
রাজধানীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তারা সিরাজ-খালেদা মেমোরিয়াল ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলেন।
ওই
হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ
নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর ডাক্তার জানান
সিজারের সময় মূত্রনালি কেটে
ফেলার কারণে এসমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
পরে প্রায় দুই লক্ষ টাকা
দিয়ে গেলো সপ্তাহে অপারেশন
করান তারা। এখনো রোগীর অবস্থা
সংকটময়। গত বৃহস্পতিবার রোগীর
সেলাই কাটা হয়।
অসহায়
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো
হয়, মুত্রনালীর সমস্যার পর বিভিন্ন চিকিৎসকের
চিকিৎসা বাবদ অন্তত ৭লাখ
টাকা খরচ করতে হয়েছে।
এসব টাকা ধারদেনা ও
সুদে আনার কারণে লাভসহ
আনুমানিক ১০/১১লাখ টাকা
আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। সর্বশেষ অপারেশনের কিছুদিন আগে ও পরে
ডাক্তার হরিপদ দেবনাথকে মূত্রনালী কাটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তাঁর ভুল
চিকিৎসার কথা তিনি নিজেও
স্বীকার করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এঘটনার
জন্য ডাক্তার হরিপদ দেবনাথকে দায়ী করছেন তারা।
ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে
রোগী মেঘলা আক্তারের স্বাভাবিক জীবন হুমকি মুখে
পড়েছে। এঘটনায় বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া অসহায় পিতা
মো: আলম মিয়া ওরফে
শাহ আলম অভিযুক্ত ডাক্তার
হরিপদ দেবনাথের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবিসহ
ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
এবিষয়ে
অভিযুক্ত ডাক্তার হরিপদ দেবনাথ মুঠোফোনে বলেন, মেঘলা আক্তারের সিজার আমিই করেছি ৫বছর
আগে। সিজারের পর প্রস্তাবের জ্বালাপোড়া
নিয়ে কয়েক মাস আমার
কাছে এসেছে তারা। ওই সময় রোগী
ভালো হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে
অন্যকোন সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এটা
তার ভুল চিকিৎসা হয়েছে
কিনা জানতে চাইলে, তিনি বলেন এটা
কোন ভুল চিকিৎসা হয়নি।
আমি অন্তত ৫০ হাজার সিজার
করেছি। মুত্রনালি কাটলে তিন বছর ৪বছর
ধরে কিভাবে চলছে সে।
সর্বশেষ
একসপ্তাহ আগেও তারা আসছিলো
অপারেশনে কথা বলছিলো। আমি
তখন তাদেরকে বলেছি মেয়ে ও তার
স্বামীকে আমার কাছে আসার
জন্য। আমি তার অপারেশন
করে দিবো বলেছি। কিন্তু
তারা আসেনি আমার কাছে। একটুই
আমি জানি এবিষয়ে আর
কি বলবো। সিজারের পর অনেক সমস্যাই
হতে পারে, হার্নিয়া, ইনফেকশনসহ বিভিন্ন কিছু হতে পারে
কিন্তু চার বছর পর
তো সমস্যা হওয়ার কথা না। তারপরও
আমি বলেছি আমার কাছে আসার
জন্য পরে তারা আমার
কাছে যোগাযোগ করেনি। তবে, ভুল চিকিৎসা
হয়নি এমনটাই তিনি দাবি করেন
ওই চিকিৎসক।
আকাশজমিন/আরআর