সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 203
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ডিপিপি অনুমোদন না হওয়ার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৫-এর সকল কর্মসূচি বয়কট করে মানববন্ধন ও কালোব্যাজ ধারন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন ৩-এর সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে ডিপিপির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করা হয় এবং ডিপিপি বিলম্বের জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে দায়ী করে তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
অর্থনীতি
বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৫১৯ কোটি
টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও জাতীয় অর্থনৈতিক
পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। ২৭ জুলাইয়ের
একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন
না দেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি
শুরু করা হবে।’
সমাজবিজ্ঞান
বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘এই সরকার আমাদের
সঙ্গে প্রতারণা করছে। বারবার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত ডিপিপি অনুমোদন করছে না। আর
আশ্বাস নয়, চূড়ান্ত ফয়সালা
নিয়ে আমরা রাজপথ ছাড়বো।’
মানববন্ধনে
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বলেন, ‘আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে এই
সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে
একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা ভবনে
চলছে। এটি কেবল আমাদের
জন্য নয়, সমস্ত দেশের
শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জার। আমরা
এর আগেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের
জন্য আন্দোলন করেছি। সরকারের আশ্বাসে আবার শ্রেণি কক্ষে
ফিরে গিয়েছি।
তবে এবার বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে আমরা ফিরছি না। এ কর্মসূচি কঠোর থেকে আরো কঠোরতর হবে।’ বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজ বলেন, ‘উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের ডিপিপি একনেকে অনুমোদন পায়নি। একনেক সভার সকলেই ডিপিপি অনুমোদনে সম্মত হলেও তিনি বলেছিলেন প্রস্তাবিত প্রকল্প অঞ্চল পরিদর্শন করে মতামত জানাবেন। সম্প্রতি তিনি সরেজমিনে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। কিন্তু একের পর এক একনেক সভা পেরিয়ে গেলেও এই প্রকল্পের ডিপিপি অ্যাজেন্ডাভুক্ত হয়নি। এজন্য এই উপদেষ্টাই দায়ী। আমরা ডিপিপির অনুমোদন চাই এবং এই উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।’
সংগীত
বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াতসিংহ শুভ বলেন, ‘এই
ডিপিপি এ পর্যন্ত ৭
বার সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের
বিভিন্ন বিভাগ যখন যে তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে, আমরা সরবরাহ করেছি।
ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি
উন্নয়ন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়
কর্তৃক ১০০ একর ভূমি
ব্যবহারে অনাপত্তি পত্র ডিপিপির সাথে
সরবরাহ করা হয়েছে। এতকিছুর
পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপির অনুমোদন না হওয়ায় নানাবিধ
শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আমরা
মনে করছি, এর পেছনে কোনো
স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত আছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের
অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজ প্রাণের প্রতিষ্ঠান
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি আমাদের জন্য আনন্দঘন দিন
হতে পারত। অথচ আমরা আজ
রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদনে সরকারের উদাসীনতা আমাদের আজ এখানে দাঁড়
করিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করব
না। আমরা দীর্ঘ ৯
বছর ধরে ধুঁকছি, আর
নয়।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে এমন টালবাহানা
গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল মাসুদ
বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস নির্মাণে ডিপিপির অনুমোদনের দাবিতে আমাদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে, এটি হতাশার। এ
বিষয়ে আমরা অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের
প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
আকাশজমিন/আরআর