সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 270
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের
তাড়াশে পর্যাপ্ত পানির অভাবে সোনালী আঁশ পাট জাগ দেওয়া যাচ্ছেনা। অপরিষ্কার পানিতে
পাট জাগ দেওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পাটের গুনগত মান। এখন বর্ষাকাল হলেও শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহেও
বিল অধ্যুষিত এলাকায় বন্যার পানির দেখা নেই। খাল-বিলে পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি
পাওয়া যাচ্ছে না। আর পুকুরে তো বানিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করা হয়। যেখানে হাঁস নামাই
নিষেধ সেখানে পাট জাগ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ফলে পাট জাগ দেওয়ার পানির সংকটে পরছেন
অনেক কৃষক।
কৃষি
অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৮১০
হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তবে সকল ইউনিয়নে সমান ভাবে পাট চাষ হয় না। এখানে
সাধারণত তোষা, কেনাফ, মেস্তাসহ কয়েকটি জাতের পাটের আবাদ হয়েছে।
তাড়াশের সোলাপাড়া গ্রামের কৃষক শ্যাম জানান, বর্তমানে প্রকার ভেদে পাটের ফলন বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার ভায়াট গ্রামে দেখা গেছে, পানির অভাবে কিছু জমির কাটা পাট গাছ গুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও দেখা যায় রবিউল নামের এক কৃষক তার জমির পাট কেটে ফেলে রেখেছেন পানির সংকটে পাট জাগ দিতে পারছেন না। আবার অনেকে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকায় ব্যক্তি মালিকানার জলাশয় খন্ডকালীন সময়ের জন্য ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।
খালখুলা
গ্রামের কৃষক হবিবর রহমান বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে এ বছর পাট চাষ করেছি। ফলনও বেশ
ভালো হয়েছে কিন্তু পানির অভাবে এক বিঘা জমির কাটা পাট এখনও জাগ দিতে পারিনি।
এছাড়া
কৃষক রহিম, কামাল, আফছার, ফজল হোসেনসহ অনেকে জানান, তাদের জমির পাট কাটার উপযোগি হলেও
তারা পাট জাগের পানি আর জায়গার সংকটের কথা ভেবে পাট কাটছেন না। অথচ পাট কেটে তাঁরা
ওই জমিতে রোপা আমনের আবাদ করবেন। তারা আরও বলেন, পানির অভাবে অনেক চাষি অপরিষ্কার
পানিতে পাট জাগ দিচ্ছেন, যার কারণে পাটের আঁশের রং কালচে হয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে ন্যায্য
দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাড়াশ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, এলাকায় পাট কাটা শুরু হয়েছে। আর
এ উপজেলার কিছু জায়গায় পাট জাগের পানির সংকট থাকলেও বেশির ভাগ স্থানে পাট জাগের পানি
ও জলাশয়ের তেমন সংকট হওয়ায় কথা নয়।
আকাশজমিন/আরআর