এম আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার অবৈধ বালুমহালের বালু খেকোদের দ্বারা ভৈরবের দুই শতাধিক পর্যটকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ভৈরবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ভৈরববাসীর মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ হামলার ঘটনার ৫দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয়ায় নরসিংদী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জের রহস্যজনক ভূমিকাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ ৬আগস্ট, বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয় মোড়ে স্থানীয় যুব সমাজ ও সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের কয়েকশত মানুষজন অংশ নেন। এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন শহরের কমলপু গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান জিসান ও কমলপুর হাজী জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নাদিম জামান।
এসময়
বক্তব্য রাখেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভৈরবের মূখ্য সমন্বয়ক শরীফুল হক জয়,
এনসিপি'র ভৈরবের আহবায়ক মোহাম্মদ কাইজার, বিশিষ্ট সমাজকর্মী রেফারি সুমন রহমান, রক্ত
সৈনিক শামসুল হক বাদল প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “রায়পুরার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট। আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের ওই সিন্ডিকেটই অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে বীরদর্পে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ বালু খেকোরা বালু উত্তোলনের পাশাপাশি চক্রটি সশস্ত্রভাবে নদীতে দাপট চালাচ্ছে।
তাদের হামলার শিকার হচ্ছে নদীতে চলাচলকারী
সাধারণ মানুষসহ ভ্রমণকারীরাও তাদের হামলা থেকে নিরাপদ নয়। এঘটনার বেশ কয়েকদিন
পেরিয়ে গেলেও নরসিংদী জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রায়পুরা থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের
নিরব ভূমিকায় রয়েছেন। এর কারণ হিসেবে প্রশাসনের লোকজন বালু খেকো সন্ত্রাসী চক্রের মদদ
দিচ্ছেন বলে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন। দ্রুত অভিযুক্ত অবৈধ বালু খেকো সন্ত্রাসীদের
গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি জানান এবং রায়পুরার চরাঞ্চলের অবৈধ বালুমহালগুলো বন্ধের জন্য
সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। যদি অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা
না নেওয়া হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য,
গত ২ আগস্ট শুক্রবার, ভৈরবের কমলপুর গ্রাম থেকে প্রায় দুই শতাবধিক শিশু কিশোর ও যুবকরা
লঞ্চযোগে গণিশাহ মাজারের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে যাওয়ার পথে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে নদীতে
লঞ্চে থাকা মানুষজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বালু খেকো জলদস্যু সন্ত্রাসীরা। এসময়
১০ রাউন্ড গুলি ও ককটেল ফুটিয়ে লঞ্চে থাকা মানুষজনকে মারধর করে আহত করেন। এবং তাদের
সাথে থাকা স্মার্টফোন, টাকা পয়সা, সাউন্ড সিস্টেমের
মালামালসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
প্রত্যক্ষদোর্শীরা জানান, বালু খেকো সিন্ডিকেটের ১৫-২০জন জলদস্যু দুটি স্পীড বোডে এসে লঞ্চের পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলা এবং গুলিবর্ষণসহ ভয়াবহ সহিংসতা চালায়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হন। পরে গ্রামবাসী লোকজন এগিয়ে আসেন তাদের রক্ষা করতে। কিন্তু তারা গুলিবর্ষণ ও ককটেল ফুটাইলে গ্রামবাসীরা ভয়ে পিছু হটে। পরে লঞ্চে থাকা মানুষজন যে যেভাবে পারে সেখান থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসেন। নদীতে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটার পরও অভিযুক্ত জলদস্যু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় নরসিংদীর প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ হন ভৈরববাসী।
আকাশজমিন/আরআর