ভৈরব প্রতিনিধি:
ইটালি প্রবাসী নারী মোমেনা আক্তার নীলি'র ক্রয়কৃত ভূমিতে নির্মাণ কাজে বাধাসহ ভূমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষসহ একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের কমলপুর হাজী জহির উদ্দিন হাই সংলগ্ন বিলপাড় এলাকায় ভুক্তভোগী ইটালি প্রবাসী নারী তার ক্রয়কৃত জায়গায় নির্মাণ কাজ শুরু করায় প্রতিপক্ষের লোকজন কয়েক দফায় হামলা ও ভাংচুরসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এসব ঘটনায় আতংকে থাকা কমলপুর এলাকার বাসিন্দা ইটালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী ভুক্তভোগী নারী মোমেনা আক্তার নীলি বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী মোমেনা আক্তার নীলি জানান, ৪০ বছর আগে তার বাবা হাজী জহির উদ্দিন জারু মিয়া সাড়ে ৪২ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি তার বাবার কাছ থেকে ওই জায়গাটি ক্রয় করেছেন।
ওই ক্রয়কৃত জায়গায় মার্কেট ও দোকান নির্মাণ করে প্রায় তিনযুগ ধরে ভোগদখল করে আসছেন তিনি। গত কয়েক মাস আগে ওই ক্রয়কৃত জায়গাটির বাকী খালি অংশে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন তিনি। ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে প্রতিপক্ষ কমলপুর গ্রামের মৃত হাসিম মিয়ার ছেলে রফিক চৌধুরী (৫৫), মুজাম্মেল চৌধুরী (৬৫) মৃত বাবলু চৌধুরীর ছেলে মো: কাউছার (৩৮), মুজাম্মেল চৌধুরীর ছেলে জাকির হোসেন (৪২) এর সহযোগী একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট কয়েক দফায় হামলা-ভাংচুর করে পুরো জায়গাটি দখল করারও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, আদালত থেকে অনুমতি দিয়েছেন নির্মাণ কাজ করার জন্য। তাই তিনি আইন মেনে নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
তিনি
আরও অভিযোগ করেন, ওই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট
তার কাছে ৫০লাখ টাকা
চাঁদা দাবি করেন। তাদের
দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ায়
বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
করছে। গত ২২জুলাই বেলা
১১টায় প্রতিপক্ষ রফিকগং ও অজ্ঞাতনামা দাঙ্গাবাজরা
রামদা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র
নিয়ে নির্মানাধীন দেয়াল ভাংচুর এবং অকথ্য ভাষায়
গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য
থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি
দেয় বলে অভিযোগ করেন।
বর্তমানে পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন
বলে জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কবির মিয়া, মঞ্জুরুল আলম সবুজ ও ফারুক মিয়াসহ একটি ভুমি সিন্ডিকেট তার দেড় শতাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। তিনি তার ওই জায়গাটিও দখল মুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া ওই ভুক্তভোগী নারী তার জীবনের নিরাপত্তাসহ এধরণের সন্ত্রাসী ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনাসহ তার জায়গাটির সুরক্ষা জন্য আইনি সহায়তা কামনা করেন।
গত
শনিবার ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান,
নীলি বেগম একজন ভালো
মানুষ, তার ক্রয়কৃত জায়গায়
একদল ভূমিদস্যু বাধা প্রদান করে
দেয়াল ভাংচুর করেছে। এখনো তারা পুনরায়
ভাংচুরের হুমকি দিচ্ছে। তারা চাঁদাবাজ ও
দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক। বিভিন্ন মানুষের
জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল
করার পায়তারার মাধ্যমে চাঁদা নেয় তারা। নীলি
বেগমের জায়গায় ঘটনায় ওই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট
নির্মাণ কাজে ভাংচুর করে
মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি
করেছেন এমন অভিযোগই করা
হয়।
প্রতিপক্ষ মো: কাউসার বলেন, যে জায়গাটি নিয়ে ঝামেলা মোমেনা আক্তার নীলির সঙ্গে। সেই জায়গাটি ওয়ারিশ আমরা। আমার চাচারা পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ২ ভাই ও ৩বোন জায়গা বিক্রি করেছে কিন্তু বাকী তিন ভাই বিক্রি না করায় তাদের অংশ রয়েছে সেই জায়গায়। এ বিষয়ে কোর্টে মামলা চলমান। কয়েক বার দরবার হয়েছে। কিন্তু নীলি বেগম তা মানতে চাইছেনা। আইন অমান্য কর সে নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার হামলা ভাংচুর করা হয়নি বলে দাবি করছেন তিনি। এবং মামলার রায়ের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য ওয়ারিশের জায়গা ফিরে পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে
প্রতিপক্ষ মঞ্জরুল আলম সবুজ জানান,
আরওআর সিএস দেখেই নিলী
বেগমের ক্রয়কৃত জায়গার অবশিষ্ট জায়গা আমরা কিনেছি। নীলি
বেগমের সাথে আমাদের কোন
ঝামেলা নাই। তারপরও কেন
নিলী বেগম দলিল বাতিলের
মামলা করেছেন সেটা জানিনা। তিনি
বলেন, আমাদের জায়গা যদি আদালতে না
টিকে বিক্রয়দাতা টাকা ফেরত দিবে
আমাদেরকে। তবে যিনি আমাদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এগুলো অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ।
৪নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো: আলম সরকার জানান, বিলপাড়ের জায়গা নিয়ে নীলি বেগমের সাথে বংশের চাচাতো ভাইদের ঝামেলা চলছে। আমি দরবারি হিসেবে চেয়েছি বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য। কিন্তু দরবারটি এখন আমার হাতে নাই। উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, মো: নুরুজ্জামানসহ আরো গণমাধ্যম ব্যক্তিরা দরবার করেছে। থানায়ও দরবার হয়েছে কিন্তু নীলি বেগম তা মানেনি।
তিনি
বলেন, রফিক চৌধুরী তারা
৫ভাই ও ৩বোনের মধ্যে
দুই বোন দুই ভাই
জায়গা বিক্রি করলেও বাকী তিন ভাই
জায়গা বিক্রি করেনি। তাই তিন ভাইয়ের
ওয়ারিশ রয়েছে ওই জায়গার মধ্যে।
ওয়ারিশদের জায়গা কোনভাবে কেউ দখল করার
সুযোগ নাই। কোর্টে মামলা
চলমান থাকায় কোন পক্ষই জায়গায়
কাজ করতে পারবেনা। সেই
জন্য দরবারি হিসেবে ওই জায়গায় নির্মাণ
কাজ বন্ধ রাখতে বলার
পরও নীলি বেগম নির্মাণ
কাজ চলমান রাখছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে
কারো পক্ষে বিপক্ষে যায়নি আমরা। এলাকার বিষয় তাই দরবারি
হিসেবে চেষ্টা করেছি বিষয়টি সমাধানের জন্য।
আকাশজমিন/আরআর