ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক

দিনাজপুরে হিমান মূর্মূর সাফল্য


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৭ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৫:৩৮ পিএম

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর পৌরসভাধীন মির্জাপুর খ্রিষ্টান পাড়ার তরুণ হিমান মূর্মূ প্রমাণ করেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে দারিদ্র্য কোনো বাধা নয় পারিবারিক দুরবস্থার মধ্যেও তিনি নার্সারি, হস্তশিল্প, কুটির শিল্প মৃৎশিল্পকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন স্বাবলম্বিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস মির্জাপুর খ্রিষ্টান পাড়ায়। এখানেই হিমান মূর্মূর শৈশব-কৈশোর কাটে। পরিবারের অভাবের কারণে বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেননি হিমান মুর্মু মাত্র দশম শ্রেণী পর্যন্ত থেমে যায় পোড়াশনা।

তাঁর পিতা তারসিউস মূর্মূ ২০০৬ সালে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের হাল ধরতে বড় ভাই রাজশাহীতে পাড়ি জমান, ছোট ভাই দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। দুই বোন বিবাহসূত্রে চলে যান শ্বশুরবাড়িতে। সংসারের হাল ধরেন হিমান মূর্মূ।

প্রথমে দিনমজুরি করে সংসার চালালেও স্বপ্ন দেখতেন নিজে কিছু করার। সেই স্বপ্ন নিয়েই বাড়ির আঙিনায় মাত্র ৯শতক জমিতে শুরু করেন নার্সারি। এখানে চিরতা, হারজোরা, হার্বাসো, সাদা লজ্জাবতীসহ নানা ঔষধি গাছের চারা তৈরি বিক্রি করেন তিনি। সেই সাথে তিনি আবাদ করে থাকেন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, বরবটি, সিম, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল, পুঁইশাক, পেঁপে, কাঁচামরিচ, ডাটাশাক, বস্তায় আদা চাষ করে বিক্রয় করেন তিনি। পাশাপাশি মাছ ধরার জাল, বাঁশের বাঁশি, ঝাড়ু, মুরগির খাঁচা, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাঁশজাত উপকরণ তৈরি করেন। কাঠ দিয়ে তৈরি করেন গিটার, ধোতারা, হারমনিয়মের মতো বাদ্যযন্ত্র।

শুধু তাই নয়, মৃৎশিল্পেও তাঁর অবদান সমানভাবে প্রশংসনীয়। মাটি দিয়ে তৈরি করছেন মাছ, গরু, বক, হাতি, দোয়েল পাখি, ডলফিন, বনরুইসহ নানা কারুকাজ। তাঁর এসব উদ্যোগ থেকে মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। স্থানীয়রা বলছেন, হিমান মূর্মূ আজ সবার জন্য অনুপ্রেরণা। অদম্য পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল থাকলে সমাজের অবহেলিত তরুণরাও স্বাবলম্বী হতে পারে এই বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি।

মির্জাপুর খ্রিস্টান পাড়া এলাকার প্রবীণরা বলেন, হিমান মুর্মুর মতো তরুণ উদ্যোক্তারা গ্রামের পরিবেশ বদলে দিচ্ছেন। তবে উদ্যোগ আরও টেকসই করতে হলে সরকারি সহায়তা কৃষি বিভাগের পরামর্শ প্রয়োজন। প্রবীণ বাসিন্দারা আরও বলেন, ধরনের নার্সারি গড়ে উঠলে আমাদের এলাকার মানুষ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে হিমান মুর্মুর মতো আরও অনেকে এগিয়ে আসবে।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর