তৎকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক জেয়াদ আল-মালুমকে নির্দেশ দিয়ে আগে থেকেই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন। ‘আপনি দাঁড়াইয়া যাবেন, আমি বসাইয়া দিমু, সবাই মনে করবে আমাদের খাতির নেই’—এই নির্দেশটি দিয়ে তিনি সাক্ষী জেরার প্রশ্নোত্তর থেকে খসড়া রায় পর্যন্ত সবই নির্ধারণ করতেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাবেক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান শেখ হাসিনার মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসব কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শাপলা চত্বরে গণহত্যার আগে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার চলাকালীন এই প্রক্রিয়া ঘটেছিল। বিচারপতি নিজামুল বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিক জিয়া উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে নিয়মিত স্কাইপ ও ইমেইলে আলাপ-আলোচনা করতেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, পদত্যাগের পরও বিচারপতি নিজামুল হক হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে পদোন্নতি পান এবং প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন। এর মাধ্যমে জনগণকে দেখানো হয় যে, বিচারপ্রক্রিয়ায় অন্যায় করা সম্ভব এবং এর জন্য শাস্তি জরুরি নয়। এছাড়া, মাহমুদুর রহমান জবানবন্দিতে আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের পুরো চিত্রও তুলে ধরেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কার্যক্রম শেষ হবে।
আকাশজমিন/আরআর