সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার ছয়জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন পদে জয়লাভ করেছেন। জেলা সদর, শ্যামনগর ও তালা উপজেলার এই শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে সাফল্য পেয়ে পরিবার, গ্রাম ও জেলাবাসীর গর্বের কারণ হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর জেলায় আনন্দের জোয়ার নেমে এসেছে। বিজয়ীরা হলেন: শ্যামনগর উপজেলার সন্তান মাহাদি হাসান নির্বাচিত হয়েছেন জাকসুর সহ ক্রীড়া সম্পাদক পদে। তিনি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও মীর মোশাররফ হোসেন হলের আবাসিক।
মাহাদি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে চাই। শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের সন্তান শরিফুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন শহীদ রফিক-জব্বার হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদে। লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের এই শিক্ষার্থীর বাবা আজিজুল হল ও মা রাশিদা বেগম। গ্রামের মানুষ মনে করছেন, তার নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হবে। এদিকে তালা উপজেলার রিপন মন্ডল আ ফ ম কামালউদ্দীন হল সংসদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে। দর্শন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের এই শিক্ষার্থী আ ফ ম কামালউদ্দীন হলের আবাসিক ছাত্র।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই রিপন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে ভালোবাসতেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নেবাখালি গ্রামের লামিয়া জান্নাত নির্বাচিত হয়েছেন জাহানারা ইমাম হল সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে। তিনি পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা মফিজুল ইসলাম ও মা জেসমিন আরা। পড়াশোনা করেছেন দৌলতপুর মুহসিন বালিকা বিদ্যালয় ও খুলনা সরকারি মহিলা কলেজে।
লামিয়া বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করাই আমার লক্ষ্য। একই উপজেলার কুশখালি গ্রামের সন্তান এহসান আহমাদ জিহাদ প্রতœতত্ত্ব বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শহীদ রফিক-জব্বার হল সংসদের কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাতক্ষীরা শহরের নুশরিকা অদ্রি নির্বাচিত হয়েছেন ১৫ নং ছাত্রী হল সংসদের ডাইনিং ও ক্যান্টিন বিষয়ক সম্পাদক।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২ তম আবর্তনের এই শিক্ষার্থী বলেন, আমি চাই, প্রতিটি ছাত্রী হলে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করুক। সদররের নেবাখালি গ্রামের লামিয়া জান্নাতের মা জেসমিন আরা বলেন- মেয়ের জন্য গর্ব হচ্ছে। আমরা চাই সে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মেয়েদের স্বপ্নের কথা জাকসুর মঞ্চে তুলুক। এই ছয় শিক্ষার্থীর জয় শুধু তাদের পরিবারের নয়, বরং সাতক্ষীরার সামগ্রিক অর্জন।
নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা জাকসু ও হল সংসদকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেবেন। আশিকুজ্জামান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এসব শিক্ষার্থীদের বিজয়ে শুধু পরিবার ও গ্রাম নয়, পুরো জেলার মানুষকে গর্বিত করেছেন। এর আগে ডাকসু নির্বাচনে সাতক্ষীরার ৮ জন বিজয়ী হয়।
আকাশজমিন /আরআর