বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানছবি: তারেক রহমানের ফেসবুক থেকে নেওয়া
অনলাইন রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা জোরদারে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি পেয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে এই অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুনে একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দেওয়া হয় এবং চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি বুলেটপ্রুফ বাস কেনার অনুমতি মেলে। তবে কোন দেশ থেকে বা কোন মডেলের গাড়ি কেনা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় সূত্র জানায়, জাপান থেকে গাড়ি কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর জানান, নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সারা দেশে জনসংযোগ করবেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হচ্ছে।
এদিকে, বুলেটপ্রুফ গাড়ির পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্যও আবেদন করেছে বিএনপি। সূত্র জানায়, একটি শটগান ও দুটি পিস্তলের লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিবেচনাধীন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানির জন্য সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক। সাধারণত এই অনুমতি দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি দূতাবাস বা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য। রাজনৈতিক দলের জন্য এমন অনুমতি অতীতে খুব কমই দেওয়া হয়েছে।
বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন) সূত্রে জানা যায়, বুলেটপ্রুফ গাড়ি সাধারণত জাপান, কানাডা ও জার্মানিতে তৈরি হয়। অতীতে শেখ হাসিনার জন্য জাপান থেকে এবং পরে কানাডা থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনা হয়েছিল।
বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, বুলেটপ্রুফ গাড়ি কিনতে প্রায় ২ লাখ ডলার খরচ হয়। ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসেবে এর মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। শুল্কসহ আনতে গেলে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গত জুনে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে দলের পক্ষ থেকে আরেকটি বুলেটপ্রুফ বাসের অনুমতি চাওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানায়, নির্বাচনী প্রচারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট বা নিয়োগ করা দেশি-বিদেশি এজেন্টদের মাধ্যমে হামলার ঝুঁকিতে আছেন। এ কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, তারা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাতে পারে। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তারেক রহমান। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকায় তৎকালীন মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা হয়। সেদিন তাঁর গাড়িসহ আরও চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এসবি প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ওপর হামলার ঝুঁকি রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মনোভাব বিবেচনায় তাঁদের জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহারের অনাপত্তি জানানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) রয়েছে। জনসভা বা সফরে তাঁদের নিরাপত্তায় সিএসএফের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
আকাশজমিন / আরআর