ক্রীড়া প্রতিবেদক
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় শুরু হয়েছে বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। ইন্দোনেশিয়ার ইন্দোনেশিয়া অ্যারেনায় রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দিন থেকেই শত শত দর্শক স্টেডিয়ামে ভিড় জমিয়েছেন, খেলোয়াড়দের অসাধারণ প্রদর্শনী উপভোগ করতে।
এ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ৮৬টি দেশের ৬০০ জনেরও বেশি প্রতিযোগী। প্রতিটি রুটিনে শিল্প, সৌন্দর্য ও ক্রীড়া দক্ষতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে জিমন্যাস্টরা দর্শকদের মুগ্ধ করছেন। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো ভেন্যু জুড়ে।
ইন্দোনেশিয়ান জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের চেয়ারপারসন ইটা যুলিয়াতি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ায় জিমন্যাস্টিকসের মান ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি করা। বর্তমান প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের সহযোগিতা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে।”
ইন্দোনেশিয়ান অলিম্পিক কমিটির চেয়ারম্যান রাজা সাপ্তা অকটোহারি জানান, এই বছরের চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের অনুশীলন, পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ ও প্রশিক্ষণে এই প্রযুক্তি তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে। “AI এখন একসঙ্গে ১০ জন খেলোয়াড়কে সহায়তা করতে পারে এবং তাদের ডেটা বিশ্লেষণ করে উন্নত পরামর্শ দিতে সক্ষম,” বলেন অকটোহারি।
প্রতিযোগিতার ৫৩তম সংস্করণটি ‘Move to Inspire’ থিম নিয়ে আয়োজিত হয়েছে, যা অনুপ্রেরণা, শারীরিক সক্ষমতা এবং শিল্পকলার সমন্বয়কে তুলে ধরছে। আয়োজকদের মতে, এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়— এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য গর্বের বিষয় এবং আঞ্চলিক জিমন্যাস্টিকসের বিকাশে এক নতুন দিগন্ত।
১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ। প্রতিদিন বিভিন্ন ইভেন্টে পুরুষ ও নারী বিভাগে শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। শক্তিশালী দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার নতুন উদীয়মান খেলোয়াড়দেরও অংশগ্রহণ এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা, পতাকা উত্তোলন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই আয়োজন শুধু খেলাধুলার মান উন্নত করবে না, বরং তরুণ প্রজন্মকে জিমন্যাস্টিকসের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়া ইতিহাসে এই আয়োজন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথমবারের মতো এমন বড় আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস আয়োজনের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া প্রমাণ করেছে তাদের সক্ষমতা ও আয়োজন দক্ষতা। খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চ্যাম্পিয়নশিপ ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আনার পথ প্রশস্ত করবে।
আকাশ জমিন / আরআর