ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং একজন অবসরকালীন ছুটিতে রয়েছেন।
যাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন—র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে)।
এছাড়া র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলমকেও একই নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীকেও আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
সকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল ৬টা থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশ এলাকায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএনসহ বিভিন্ন বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়।
এ ছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো—কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, কাকরাইল মোড়সহ প্রধান সড়কগুলোতে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ও সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশের সামরিক ও বিচার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সক্রিয় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন নির্দেশ আগে কখনো দেওয়া হয়নি।
আকাশজমিন / আরআর