ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

ভিক্ষা করে তিন বস্তা টাকা জমানো সালেহা বেগমের মৃত্যু


সিরাজগঞ্জের ভিক্ষুক সালেহা বেগম

  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৬:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জে ভিক্ষা করে তিন বস্তা টাকা জমিয়ে আলোচনায় আসা সালেহা বেগম (৬৫) অবশেষে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই হারালেন। স্থানীয়ভাবে সবাই তাকে ‘সালে পাগলী’ নামে চিনতেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শহরের কান্দাপাড়া কবরস্থানে শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সালেহা বেগমের জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করেন।

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহরিয়ার শিপু সাংবাদিকদের জানান, “সালে পাগলী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। আজ আমরা তাকে চিরশায়িত করেছি। তার জমানো টাকা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হবে।”

সালেহা বেগমের জীবন ছিল দুঃখ আর সংগ্রামের গল্প। বৃদ্ধা হলেও প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বেরিয়ে যেতেন, মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ে তাদের দয়া ও ভালোবাসার ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কঠোর পরিশ্রম, কিন্তু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভরা তার জীবনের গল্প সম্প্রতি সারা দেশে আলোচিত হয়েছিল।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুমপুর নতুনপাড়ায় তার বসতঘর থেকে স্থানীয়রা দুইদিনের ব্যবধানে তিন বস্তা টাকা উদ্ধার করেন। সেখানে মোট ব্যবহারযোগ্য টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ টাকা। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয় এবং মানুষ সালেহা বেগমের সংগ্রামী জীবন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রশংসা করে।

স্থানীয়দের মতে, সালেহা বেগম শুধু নিজের জীবনের জন্য সংগ্রাম করেননি, তিনি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার কষ্টকর জীবনের মধ্যেও সততার মানসিকতা ও টাকা জমানোর গল্প সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সালেহা বেগমের প্রয়াণ শুধুমাত্র তার পরিবারের জন্যই নয়, পুরো সিরাজগঞ্জের মানুষের জন্য এক গভীর হৃদয়বিদারক ক্ষতি। তার জীবনের গল্প এবং সংগ্রহ করা অর্থের গল্প সমাজকে অনেক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে—যেমন দরিদ্র হলেও সততার সঙ্গে বাঁচা সম্ভব।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর