আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ জোরেশোরে চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এবার প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে প্রস্তুত রাখছে দলটি—যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা যায়।
আজ সোমবার যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আমরা সমগ্র বাংলাদেশে আসনভিত্তিক একাধিক যোগ্য প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রস্তুতের কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে।”
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনকে ‘নিয়ন্ত্রিত’ বলে দাবি করে বিএনপি কৌশল হিসেবে একই আসনে বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল, যেন প্রার্থিতা বাতিলের পর আসনটি বিএনপিশূন্য না থাকে।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটি প্রায় দুই শতাধিক আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে, যা শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। তবে জোটের কারণে কিছু আসন ছাড় দিতে হতে পারে বলেও জানা গেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা দলের মধ্যে এবং জাতির মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিতে চাই। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কেউ যেন বিভেদের পথে না যায়, সেটিই এখন আমাদের প্রধান বার্তা।”
তিনি আরও জানান, বিএনপি চলমান যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর জোট গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি বলেন, “আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করা হবে।”
যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করতে বিএনপির বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সারা বাংলাদেশে তরুণদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা শুনেছি। তাদের আইডিয়া নিয়েই আমরা আগামী দিনের কর্মসূচি তৈরি করছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশ হবে একটি তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ।”
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর