ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

জাতীয় নির্বাচনের দিন অথবা এর আগে গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৯ পিএম

অনলাইন ডেস্ক:


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করার পক্ষে নয় কমিশন। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে সরকার।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ জমা দেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের দিন বা তার আগেও গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। তবে দিনক্ষণ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন ও সরকারের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে হবে।”

অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, “সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাই ৪৮টি বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, এসব ৪৮টি বিষয় একত্রে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত গণভোট নেওয়া হবে। জনগণ ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সরাসরি মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “এই সংসদ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। সংসদ থেকে বিল আকারে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হবে। যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন না করে, তাহলে জুলাই সনদের বিষয়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদের প্রথম নয় মাসের মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদকে গঠনমূলক ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজন করতে পারে।

ড. রীয়াজ বলেন, “কিছু বিষয় অফিস আদেশের মাধ্যমেও বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তির বিষয়গুলো গণভোটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।” তিনি আরও জানান, “আজকেই সব রাজনৈতিক দলকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সুপারিশমালা পৌঁছে দেওয়া হবে।”

এনসিপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল এখনও সনদে স্বাক্ষর করেনি—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করি, বাকি তিন দিনের মধ্যে তারাও সই করবে।”

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অন্যান্য সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

এই সুপারিশমালা বাস্তবায়ন হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মূল লক্ষ্য—সংবিধান সংস্কার, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—বাস্তবায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর