অনলাইন রিপোর্টার
বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার বড় বাধা হিসেবে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দায়ী করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, “যত দিন পর্যন্ত সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো রাজনৈতিক ভিত্তিতে বিভক্ত থাকবে, তত দিন পর্যন্ত স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।”
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সংস্কার: সুপারিশ, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটির আয়োজন করে একটি জাতীয় পত্রিকা।
মাহ্ফুজ আনাম বলেন, “আমি যতই স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলি না কেন, যদি আমি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যে সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য হই, তাহলে পাঠক কেন আমাকে বিশ্বাস করবে? স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবাদিকদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দর্শক, পাঠক ও শ্রোতার আস্থা অর্জনই সাংবাদিকতার মূল কাজ। সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে পাঠক—সরকার নয়। সরকারের মনোভাব নয়, বরং পাঠকের আস্থা ও বিশ্বাসই গণমাধ্যমের টিকে থাকার শক্তি।”
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটবে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সরকার কতটা আগ্রহী, সেটি নিয়েই সন্দেহ রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদপত্রের মালিকেরা যদি নিজেদের স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন না হই, তাহলে বাইরের চাপ ও প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হবে। সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সম্পাদকীয় দায়িত্ব ও মালিকদের সীমারেখা নিয়ে আমাদের নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
গণমাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, “যত দিন সরকারের কাছে জবাবদিহি থাকবে, স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকাশ ততই কঠিন হবে। ধীরে ধীরে এই নির্ভরতা কমাতে না পারলে সত্যিকার স্বাধীনতা অর্জন অসম্ভব।”
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, নোয়াব সদস্য এ কে আজাদ, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রাজা, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান মওদুদ হোসেন আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে।
আকাশজমিন / আরআর