ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি নিশ্চিতের দাবি এনসিপির


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৪:২৭ পিএম

প্রিয় দেশবাসী ও সাংবাদিকবৃন্দ—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা জানাই। আপনারা অবগত আছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবিতে এনসিপি এখন পর্যন্ত সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রয়েছে। আমাদের অবস্থান ছিল এবং এখনো আছে—জুলাই সনদ শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমঝোতার কাগুজে দলিল নয়; বরং এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

আমরা শুরু থেকেই বলেছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া না দেখে কোনো স্বাক্ষর দেওয়া হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা লক্ষ করছি, এনসিপির এই আপোষহীন অবস্থানের ফলেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সম্প্রতি সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা সুপারিশ করেছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি এবং কমিশনের এই প্রচেষ্টাকে আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

কমিশন দুটি ধরনের সংস্কার রূপরেখা পেশ করেছে—একটি সংবিধান-সম্পর্কিত নয় এমন সংস্কারের জন্য এবং অন্যটি সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কারের জন্য। সংবিধানবহির্ভূত সংস্কারসমূহের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন ও অধ্যাদেশের খসড়া ইতোমধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে কোনো বিলম্ব না করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে সংবিধান সম্পর্কিত প্রায় ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবই এখন মূল আলোচ্য বিষয়। কমিশন এসব সংস্কারের বাস্তবায়নের জন্য দুটি পৃথক খসড়া দিয়েছে—প্রস্তাব-১ ও প্রস্তাব-২। জাতীয় নাগরিক পার্টির মতে, প্রস্তাব-১ বাস্তবায়নের পথেই সরকারকে এগোতে হবে।

প্রস্তাব-১-এর ৮(ঙ) ধারায় বলা হয়েছে—সংবিধান সংস্কার পরিষদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে, পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কার বিলই আইন হিসেবে কার্যকর হবে। এনসিপির মতে, গণভোটে প্রাপ্ত ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে এটি একটি অপরিহার্য ধারা, যার অনুরূপ ব্যবস্থা বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রস্তাব-২-এ এমন কোনো বাধ্যতামূলক ধারা নেই, যা সংস্কার কার্যক্রমকে দুর্বল করতে পারে। তাই এনসিপি মনে করে, সরকারকে প্রস্তাব-১-ই বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তবে প্রস্তাব-১-এ কিছু ভাষাগত অস্পষ্টতা রয়েছে, যা সংশোধন করা প্রয়োজন। যেমন ৮(ক) ধারায় “গাঠনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে” নয়, “করিবে” শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে ৮(ঘ) ধারায় “বিবেচনা করিবে” বাক্যাংশটি অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে, যা দূর করা জরুরি।

এনসিপি আরও মনে করে, গণভোটে প্রদত্ত “সংবিধান সংস্কার বিল”-এর খসড়া দ্রুত প্রণয়ন করে জনগণের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে, যাতে নাগরিকরা সরাসরি মতামত দিতে পারেন।

এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টি সরকারের প্রতি তিনটি আহ্বান জানাচ্ছে—
১. ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকৃত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের প্রথম খসড়া (প্রস্তাব-১) গ্রহণ করতে হবে, যাতে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়।
২. সংবিধান সংস্কার বিলের খসড়া প্রণয়ন ও জনগণের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তিসম্পন্ন আদেশ গ্রহণ করলে সনদে স্বাক্ষর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটবে বলে এনসিপি বিশ্বাস করে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর