ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

জলবায়ু তহবিলে ২১১০ কোটি টাকার দুর্নীতি: টিআইবি


‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:২৬ পিএম

বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থার সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় জলবায়ু তহবিল থেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর ৫৪ শতাংশ বরাদ্দে দুর্নীতি হয়েছে। প্রাক্কলিত এই পরিমাণ প্রায় ২৪৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ১১০ কোটি টাকার বেশি।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানায় টিআইবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটি) থেকে মোট ৪৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থ দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, যোগসাজশ এবং দলীয় বিবেচনায় প্রকল্প অনুমোদনের প্রবণতা ছিল স্পষ্ট। অথচ তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে বিসিসিটির কর্মকর্তারা অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

টিআইবি জানায়, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস মিলিয়ে বরাদ্দ এসেছে গড়ে মাত্র ৮৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ প্রতিবছর গড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হারে কমেছে, বিপরীতে আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ হারে। তবে বরাদ্দের পরিমাণ দেশের প্রয়োজনের তুলনায় অতি সীমিত রয়ে গেছে।

জাতীয় তহবিলের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ব্যর্থতা ও অদক্ষতা নিয়মিত সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গড়ে ৬৪৮ দিনের প্রকল্প শেষ হতে সময় লেগেছে ১ হাজার ৫১৫ দিন—অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের ১৩৩ শতাংশ বেশি। এমনকি কোনো কোনো চার বছর মেয়াদি প্রকল্প শেষ হতে লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক তহবিল থেকেও একই চিত্র পাওয়া গেছে—৫১টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টির মেয়াদ গড়ে ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ প্রতিবছর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও, ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পেয়েছে মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এটি একেবারেই অপ্রতুল।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় জলবায়ু তহবিলের ৫৪ শতাংশ অর্থ দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই অর্থ লুট করেছে। সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণেই এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছে। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে ক্ষতি আরও বাড়বে।”

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, “জলবায়ু অর্থায়নে প্রকৃত উপকারভোগীদের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

তিনি জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন, স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠন এবং তথ্যপ্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরোপের সুপারিশ করেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর