ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

জামায়াত নেতা তাহেরের হুঁশিয়ারি

‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব, ঘি আমাদের লাগবেই’


জামায়াত নেতা তাহেরের হুঁশিয়ারি

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:১৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

নভেম্বর মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে স্মারক লিপি জমা দিতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর পল্টন এলাকা বিক্ষোভমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নেতা-কর্মীরা “গণভোট, গণভোট” স্লোগানে এলাকায় প্রকম্পিত করছে।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা তাদের অবস্থান জানান। এরপর তারা যমুনা ভবনে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারক লিপি প্রদান করবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করব, ঘি আমাদের লাগবেই। প্রয়োজনে আবার জীবন দেবো। জুলাইয়ের চেতনা ভুলুণ্ঠিত হতে দেবো না।”

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি আদায়ের পথে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করছেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে স্মরণ করিয়ে দেন, আপনি ঐকমত্য কমিশনের প্রধান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ এখুনি জারি করুন।

জানা যায়, রাজধানীর পল্টন এলাকা বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে উত্তাল হয়ে উঠেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নভেম্বরেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করতে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল মূল পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে রাজধানীর পল্টন মোড় ও আশেপাশের এলাকা বিক্ষোভমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। নেতাকর্মীরা “গণভোট, গণভোট” স্লোগান দিয়ে এলাকায় প্রকম্পিত করছে।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ শেষে তারা যমুনা ভবনে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপার) তাদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যেই পল্টনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন।

সকালে মিছিলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে মিছিলে অংশ নেন।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ, নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমে বাধাহীনতা, গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

সমাবেশে অংশ নেওয়া জামায়াতের নেতা হারিস উদ্দিন বলেন, “জনগণের মতামত ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের রায়ের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চাই।”

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। গতকাল বুধবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

স্মারকলিপি প্রদানকারী আটটি দল হলো: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

এদিকে পল্টন এলাকা ঘিরে জনসমাগম, স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সংগঠিত এই মিছিল ও সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও প্রশাসনিক পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পল্টনে রাজনৈতিক দলগুলোর এই আন্দোলন আগামী দিনগুলোতে সরকারি পর্যায়ে আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর