ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আমতলী থানায় জব্দকৃত জাটকা ইলিশ লুট


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:৫৮ পিএম

 আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি  

বরগুনার আমতলী থানা থেকে জব্দকৃত ১৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ মাছ লুট হওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে থানা কমপাউন্ডের ভেতর এই মাছ লুট হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার ফলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা যায়, ১ নভেম্বর থেকে সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সাগর ও নদীতে জাটকা ইলিশ শিকারে। কিন্তু তালতলী, কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলার অসাধু জেলেরা সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে জাটকা মাছ শিকার করছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌবাহিনী ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের সদস্যরা ১৫০০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দ করেন এবং আমতলী থানায় মজুদ করেন।

সেই দিন বিকেলে এই মাছ স্থানীয় ৫০টি এতিমখানায় বিতরণ করার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ প্রায় দুই শতাধিক লোক থানা কমপাউন্ডে প্রবেশ করে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, পুলিশ ও প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী গাজী নাসির উদ্দিন বলেন, “পুলিশের সামনে থেকে মাছ লুট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব যথাযথ পালন করা উচিত ছিল।” তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসন যদি সঠিকভাবে মাছ বিতরণ নিশ্চিত করতেন, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।”

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার জানান, “আমি প্রশিক্ষণে ছিলাম। যখন মাছ বিতরণ চলছিল, তখন ৫০টির বেশি এতিমখানায় মাছ বিতরণ করা হচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎ পরিচিতি না থাকা একশর বেশি লোক এসে মাছ লুট করে নিয়েছে।”


অপরদিকে আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “জব্দকৃত মাছের অর্ধেক সঠিকভাবে বণ্টন করা হয়েছে, বাকি অর্ধেক লুট হয়েছে। আমি বাধা দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।”

তবে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন এই ঘটনার বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “থানাটি একটি সুরক্ষিত স্থান। সেখান থেকে মাছ লুট হওয়া সম্ভব নয়। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেছেন, এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর