ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সাহায্য চান এলজিআরডি মন্ত্রী যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১ ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের পরিমাণ কত? সারের ডিলার কমিশন বাড়লেও কৃষকের কেনা দাম একই থাকছে কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'যাচাই না করা' সংবাদে সাংবাদিকদের হতে পারে ১০ বছরের জেল সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

দাম হাঁকা হচ্ছে লাখ টাকা

জাহানারা ইমামের দেওয়া বই বিক্রি করেছে বাংলা একাডেমি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বই বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে, যা ছিল বাংলা একাডেমির সংগ্রহে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

পুরোনো বই বিক্রির একটি ফেসবুক পেজ ‘পুস্তক জোন’ গত ২২ সেপ্টেম্বর জর্জ বার্নাড শ-এর প্লেস আনপ্লিজেন্ট বই বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়। বইটির ভেতরে বাংলা একাডেমির সিল এবং পাশে লেখা— ‘জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত সংগ্রহ।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, জাহানারা ইমামের অন্তত ২০টি বাংলা ও ইংরেজি বই কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত বই হলো শহীদুল্লা কায়সারের উপহার দেওয়া “সংশপ্তক”, যার দাম হাঁকা হয়েছে এক লাখ টাকা। পোস্টে বলা হয়েছে, দাম না পেলে বইটি ‘সিন্দুকে’ রেখে দেওয়া হবে। এই বইটি ১৯৬৭ সালের ৪ মার্চ কায়সার নিজ হাতে স্বাক্ষর করে জাহানারা ইমাম ও তাঁর স্বামী শরীফ ইমামকে উপহার দিয়েছিলেন।

ফেসবুকে “বিচিত্র বিচিত্র বই” নামের আরেকটি পেজ জানায়, তারা নীলক্ষেত থেকে পুরোনো বইয়ের লট কিনে পেয়েছে জাহানারা ইমামের স্বাক্ষরযুক্ত বই। এছাড়া আহমদ শরীফ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর স্বাক্ষর করা বইও তাদের হাতে এসেছে।

জাহানারা ইমামের পরিবারের সদস্যরা বাংলা একাডেমিকে তাঁর বইগুলো দিয়েছিলেন সংরক্ষণের জন্য। কিন্তু এসব বই অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকে লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমির সংগ্রহের বই এখন ফুটপাতে।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম জানান, ২০১৪ সালে গঠিত একটি কমিটি একাডেমির গ্রন্থাগারে থাকা ডুপ্লিকেট ও মানহীন বই বাতিল বলে ঘোষণা করেছিল, সেগুলোই বিক্রি করা হয়েছে।

তবে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ ও কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী এই বিক্রিকে “স্পষ্ট অন্যায়” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, বিশিষ্ট ব্যক্তির সংগ্রহশালার বই কোনোভাবেই বিক্রি করা যায় না। বরং সেই ব্যক্তির নামে কর্নার তৈরি করে সংরক্ষণ করা উচিত।

অন্যদিকে, সাহিত্যিক আবুল মোমেন বলেছেন, “জাহানারা ইমামের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের বইগুলো দেশের ঐতিহ্যের অংশ। এসব বিক্রি করা মানে ইতিহাস বিক্রি করা।”

বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, বাতিল হওয়া বইগুলো অনেক দিন ধরে একাডেমির দোতলায় রাখা ছিল, জায়গার অভাবে সেগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কতটি বই বিক্রি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে কেউ জানাতে পারেননি।

জাহানারা ইমামের সংগ্রহের অন্তত ২০টি বই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোর ভেতরে একাডেমির সিল ও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর