নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ‘আমজনতার দল’-এর নিবন্ধনের দাবিতে চলমান অনশন ভেঙে আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।রবিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আপিল, সংশোধনী, পরিমার্জন বা সময় বর্ধন—এসব তো প্রচলিত প্রক্রিয়া। নিশ্চয়ই তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন। আমি আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি, যেন এই অনশন ভঙ্গ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথে এগিয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন,আইনগতভাবে আমাদের দিক থেকে যতটুকু বলা প্রয়োজন, আমরা তা চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। এখন তারা চাইলে আপিল করতে পারেন এবং যেসব ঘাটতি আছে, তা পূরণ করতে পারেন।
সিনিয়র সচিব জানান, নিবন্ধন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে কিছু নির্দিষ্ট শর্তের আওতায়। দলটি কিছু জায়গায় আপত্তি জানিয়েছে, যা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে তারা পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারে। আবেদন এলে কমিশন তা বিবেচনা করবে কিনা, সেটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, আমি মনে করি, কেউ যদি কোনও বিষয়ে সংক্ষুব্ধ থাকেন, তিনি যেকোনও সময় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন।
‘আমজনতার দল’-এর সদস্য সচিব তারেক রহমান কোন কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করবেন, এ প্রশ্নে আখতার আহমেদ বলেন, সাধারণত এই প্রক্রিয়া সচিবালয় থেকেই হয়, কারণ চিঠিপত্র সেখান থেকেই ইস্যু হয়। আপিল করলে তা সিনিয়র সচিব বা কমিশনের সচিবের বরাবর যাবে। নির্দিষ্ট সময়সীমা আমি বলছি না। আপনি চাইলে এখনই বা আগামীকালও করতে পারেন। এটি পুরোপুরি তাদের সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর নির্বাচন কমিশন তিনটি নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী), এবং বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি। এরপর দাবি-আপত্তি আহ্বান জানিয়ে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
সেদিনই নিবন্ধনের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘আমজনতার দল’। এ ঘটনায় বিকেল থেকেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মূল ফটকে দলটির সদস্য সচিব তারেক রহমান অনশন শুরু করেন।
ইসি সচিব বলেন, আমরা চাই না কেউ অসুস্থ হোন বা ক্ষতির মুখে পড়ুন। আইনই বলছে, কেউ যদি মনে করেন তাকে অন্যায় করা হয়েছে, তবে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সেই পথেই এগোনো উচিত।
আকাশজমিন / আরআর