ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশজুড়ে আতঙ্ক: ফখরুল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:১৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার
শেখ হাসিনার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গণহত্যা মামলার’ রায় ঘোষণা আগামীকাল। এ রায়কে ঘিরে দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “আগামীকাল ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যে ট্রায়াল হয়েছে তার রায় বের হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই—একটি মহল দেশে আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তিনি “বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের রাজনীতি এক ধরনের কনফিউজ পলিটিক্সের মধ্যে চলে গেছে। এমন সব ঘটনা ঘটছে, এমন সব উপাদান ঢুকছে যা এই দেশের মানুষ কোনোদিন কল্পনাও করেনি। এগুলো বাংলাদেশের আত্মা নয়, সোল নয়। দেশ আজ জটিল সংকটে রয়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের নামে যারা এসেছে, তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে অন্য জায়গায় নিতে চেয়েছে। কিন্তু তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা—এখনো বলা যায় না।”

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা বারবার বলেছি—নির্বাচনই হচ্ছে একমাত্র পথ, যা দিয়ে ট্রানজিশন করে গণতন্ত্রে যাওয়া সম্ভব। হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখন একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে।”

ফখরুল অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। নানা ইস্যু তৈরি করে তারা নির্বাচনকে ব্যাহত, বিলম্বিত বা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার চায়—যার পেছনে সরাসরি ভোটারদের সমর্থন থাকবে।

তিনি বলেন, “অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। নির্বাচন ছাড়া এই অবস্থা আরও খারাপ হবে। আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।”

আগামীকালের রায়কে কেন্দ্র করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে ফখরুল বলেন, “গণহত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে একটি মহল আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। ছাত্রদের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন নষ্ট না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের উত্তরণ কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না—এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করছি—আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামনে এগিয়ে যাই। মাওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা যেন এই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারি।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। সঞ্চালনা করেন কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আকাশজমিন / আরআর 

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর