ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

জেরায় স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর দাবি

ইটপাটকেলের আঘাতেই মারা যান আবু সাঈদ: আইনজীবী


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:৩৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত জাহান। রোববার (১৬ নভেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত থাকা ওসি মো. নূরে আলম সিদ্দিককে জেরা করার সময় তিনি এই দাবি করেন। ১৭ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল।

জেরার সময় আইনজীবী ইশরাত জানতে চান, আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে পুলিশ কোথায় ছিল। উত্তরে নূরে আলম বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের ভেতরে ছিলেন এবং এসি আরিফুজ্জামানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গেট খোলা ছিল বলেও জানান তিনি।

ইশরাত জাহান আরও প্রশ্ন করেন, আগের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে কি গুলি চালানো হয়েছিল। জবাবে নূরে আলম বলেন, তিনি শুনেছেন যে রংপুর কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন এসি মো. আরিফুজ্জামান এবং তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলাম গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আইনজীবীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, আবু সাঈদের মাথার পিছনে আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেল লাগে, এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন নূরে আলম।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের সময় তিনি হারাগাছ থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আবু সাঈদ নিহত হওয়ার দিন তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, এসি আরিফুজ্জামান এবং তাজহাট থানার ওসি রবিউল ইসলামের নির্দেশে আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন গুলি চালান। সেই গুলিতেই আহত হন আবু সাঈদ। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করা হয়।

জবানবন্দির একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা কিছু সংশোধনী দিতে চাইলে প্রসিকিউশন জানতে চায়, ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় গেটের ভেতরে আরও কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন কি না। এসময় আপত্তি তোলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। তিনি বলেন, সাক্ষীর বক্তব্য প্রসিকিউশন প্রভাবিত করতে পারে না এবং সাক্ষী ছাড়া অন্য কারও বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চলে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও সুলতান মাহমুদ।

মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ হয়েছে। আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বাকি কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হলে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হবে।

এই মামলার ছয় আসামি—এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ—উপস্থিত থেকে সাক্ষ্য শুনছেন। মামলার অপর ২৪ জন পলাতক আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় এবং ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করা হয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর