ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কী সাজা পেতে যাচ্ছেন রাজসাক্ষী মামুন?


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:৩৪ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রায়ের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ভাগ্য।

রাজসাক্ষী হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশে সাক্ষ্য দেওয়া চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রায় ঘোষণার সময় কী শাস্তি পেতে পারেন তা নিয়ে দেশে বড় ধরনের আলোচনা চলছে। মামলার প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী, উভয়পক্ষের যুক্তিকণ্ডনে সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে আন্দোলনরত ছাত্র ও জনতার ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডে রাজসাক্ষী মামুনের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আন্দোলন দমন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বিচারিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার শুরুর পর মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৯ কার্যদিন ধরে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের যুক্তি-প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

রাজসাক্ষী হিসেবে মামুনের ওপর ট্রাইব্যুনালের রায় নির্ভর করছে। প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী উভয়ই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। মামলার অন্যান্য আসামি—শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল—সর্বোচ্চ সাজা চান। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ক্ষেত্রে রায় ট্রাইব্যুনালের বিচারের ওপর নির্ভর করছে।

বিচারিক ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণ মানুষও রায় ঘোষণার আগে সতর্কতা অবলম্বন করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজসাক্ষী মামুনের রায় শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যত নয়, মামলার বিচারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রভাবকেও নির্দেশ করবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রমাণ ও সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে হওয়ায় তার রায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, মামলার রায় ঘোষণার দিনটি দেশে উত্তেজনা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্ব বহন করছে। জনসাধারণ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক পক্ষ সবাই রায় ঘোষণার ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর