অনলাইন রিপোর্টার
জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রায়ের চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ভাগ্য।
রাজসাক্ষী হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশে সাক্ষ্য দেওয়া চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রায় ঘোষণার সময় কী শাস্তি পেতে পারেন তা নিয়ে দেশে বড় ধরনের আলোচনা চলছে। মামলার প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী, উভয়পক্ষের যুক্তিকণ্ডনে সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে আন্দোলনরত ছাত্র ও জনতার ওপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডে রাজসাক্ষী মামুনের ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আন্দোলন দমন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বিচারিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার শুরুর পর মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৯ কার্যদিন ধরে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের যুক্তি-প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
রাজসাক্ষী হিসেবে মামুনের ওপর ট্রাইব্যুনালের রায় নির্ভর করছে। প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী উভয়ই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। মামলার অন্যান্য আসামি—শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল—সর্বোচ্চ সাজা চান। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ক্ষেত্রে রায় ট্রাইব্যুনালের বিচারের ওপর নির্ভর করছে।
বিচারিক ট্রাইব্যুনাল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণ মানুষও রায় ঘোষণার আগে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজসাক্ষী মামুনের রায় শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যত নয়, মামলার বিচারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রভাবকেও নির্দেশ করবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রমাণ ও সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে হওয়ায় তার রায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, মামলার রায় ঘোষণার দিনটি দেশে উত্তেজনা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্ব বহন করছে। জনসাধারণ, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক পক্ষ সবাই রায় ঘোষণার ফলাফলের দিকে নজর রাখছে।
আকাশজমিন / আরআর