রাজধানীর পল্লবীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে গুলি করার পর মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় পুরো পল্লবী, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক জানান, সন্ধ্যার পরপরই অস্ত্রধারীরা হঠাৎ গুলিবর্ষণ করলে গোলাম কিবরিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আমিনুল হক তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি কারা, কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে। হামলার রহস্য উদঘাটন ও হামলাকারীদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে গুলিবর্ষণের পর পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দোকানপাট ও আশপাশের এলাকায় মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে। যুবদল, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই থানা পুলিশ, র্যাব এবং ডিবি যৌথভাবে ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানায়, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফুটেজে কোনো মোটরসাইকেল, ব্যক্তি বা অস্ত্রধারী শনাক্ত করা গেলে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
র্যাবের একটি তদন্তকারী দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারা জানান, হত্যাটি পরিকল্পিত কিনা, নাকি হঠাৎ ঘটেছে—তা তদন্ত করে দেখা হবে। নিহত গোলাম কিবরিয়ার চলাফেরা, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং পূর্বের কোনো শত্রুতার বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুবদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তিনি পরিচিত মুখ হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। তবে পরিবারের বক্তব্য, তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া তারা কোনো মন্তব্য চান না।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে গোলাম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ড পল্লবী ও মিরপুর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সাধারণ জনগণ হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর