জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনে যোগ দিতে তাঁর বুধবার দিল্লি যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি একদিন আগেই, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারত পৌঁছেছেন। এই হঠাৎ পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বর্তমান আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
ভারতের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, খলিলুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম সম্মেলন আগামী বৃহস্পতিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল থেকে শুরু হয়ে মধ্যাহ্নভোজের পর সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হবে। একই দিন বিকেলেই খলিলুর রহমান ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। তবে একদিন আগে পৌঁছানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বাড়তি কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
ঠিক এমন সময়ে তাঁর এই সফর, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠানোর বিষয়টি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে খলিলুর রহমান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং শরণার্থী ইস্যু নিয়ে বিশেষ আলোচনা হতে পারে। যদিও কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলেনি, তবে সফর ঘিরে উভয় দেশের নীতি–পর্যায়ের আগ্রহ স্পষ্ট।
অজিত দোভাল গত মাসেই কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের এই সম্মেলনে যোগ দিতে খলিলুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কালে ভারত সফরে যাওয়া উপদেষ্টাদের সংখ্যা মাত্র দুইজন। এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে অংশ নিতে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেছিলেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, সাইবার হুমকি মোকাবিলা, সমুদ্র নিরাপত্তা, তথ্য আদান–প্রদানসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে দিল্লিতে তাঁর এই আগাম উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিশেষ তাৎপর্য ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আকাশজমিন / আরআর