ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সিনহা হত্যা: প্রদীপ-লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল


সিনহা হত্যা

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:১৮ পিএম

বহুল আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ মামলার অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন দণ্ডও বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশও বহাল থাকে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেন। এখন ৩০ দিনের মধ্যে আসামিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

এর আগে ২ জুন এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের উপর শুনানি শেষে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই আদেশে টেকনাফ থানার সাবেক এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, সাগর দেব, কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনের যাবজ্জীবন দণ্ডও বহাল থাকে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২০২০ সালের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। এর পরপরই তদন্ত শুরু করে র‌্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‌্যাব আদালতে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে। ওই অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যা ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনকেও যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়। বাকি সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছিল।

রায়ের বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। গত ২৯ মে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়। এরপর আদালত রায় প্রস্তুত করে ২ জুন মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড বহালের ঘোষণা দেন। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে রায় প্রকাশ করা হলো।

এই রায়ের মাধ্যমে উচ্চ আদালত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ অপরাধে জড়িত হলে আইন তার বিরুদ্ধে সমানভাবে প্রযোজ্য। মেজর সিনহা হত্যা মামলা দেশের বিচারব্যবস্থায় নজিরবিহীন গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি দীর্ঘদিন ধরে জনমনে আলোচিত একটি ঘটনা এবং এ মামলার তদন্ত, বিচার ও আপিল প্রক্রিয়া সর্বত্রই ছিল দৃষ্টি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর