শেয়ারবাজারসংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্রিকেটার ও মাগুরা–১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো তলবি চিঠিতে সাকিবকে আগামী ২৬ নভেম্বর কমিশনে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, শেয়ারবাজারে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির লেনদেনে অস্বাভাবিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে কমিশন। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই সাকিব আল হাসানের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় দুদক। তলবি চিঠিতে তাকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শেয়ারবাজারসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত অগ্রগতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, ব্রোকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অভিযোগের সপক্ষে কিছু তথ্য হাতে এলে সাকিব আল হাসানকে তলব করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা যায়, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত কিছু অনিয়মের অভিযোগ দুদকের হাতে আসে। বিশেষ করে কিছু বিশেষ সুবিধাভোগী বিনিয়োগকারী এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাজার কারসাজির অভিযোগ কমিশন আমলে নেয়। সেসব তথ্য যাচাই–বাছাই করতে গিয়ে কয়েকজনের নামে অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এদের মধ্যেই অন্যতম সাকিব আল হাসান।
সাকিব আল হাসান জাতীয় দলে দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম তারকা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। পরে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে বিভিন্ন সময় তাকে বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং বিনিয়োগে যুক্ত হতে দেখা গেছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে কিছু লেনদেন তদন্তাধীন মামলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় দুদক তাকে সরাসরি ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
তবে সাকিব আল হাসান এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তলবি চিঠির বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং নির্ধারিত তারিখে দুদকের অফিসে উপস্থিত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাজার কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং, শেয়ার দামে অস্বাভাবিক কারসাজি এবং ভুয়া তথ্য প্রচারের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দুদক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন বার্তাই দিতে চাইছে দুদক।
এ ঘটনার পর দেশের ক্রীড়া অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় এ তলবকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, আদালত ও তদন্ত সংস্থার কাজকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাকিবের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করা। অন্যদিকে, ক্রিকেটবিশ্বের একাংশ বলছে, তদন্ত না শেষ হওয়া পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মন্তব্য না করাই উত্তম।
এ বিষয়ে দুদক জানিয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে যাকে প্রয়োজন মনে হবে তাকেই তলব করা হবে। তদন্ত সম্পূর্ণ হলে আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।