বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্রের পথচলায় নতুন করে যেন কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, এই রায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ভারসাম্যমূলক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর দেশে ভোটের অধিকার সংকুচিত হয়েছে, মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অসম হয়ে গেছে। রিজভীর ভাষ্যমতে, আদালতের সর্বশেষ রায় সেই ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায় ফ্যাসিস্ট তৈরির পথ রুদ্ধ করবে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই রায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”
তারেক রহমানের জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি মানবিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, দেশজুড়ে অনেক মানুষ অসুস্থ, অনাহারে বা সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এমন সময়ে জন্মদিন উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। রিজভী দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দলটি মানুষের কল্যাণে আরও উচ্চমাত্রার ভূমিকা রাখতে পারবে।
রুহুল কবির রিজভী শেখ হাসিনার অতীত শাসনকাল নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা মানবতা ধারণ করতে পারেননি বলেই দেশের ওপর নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছেন। রিজভী বলেন, “তিনি যে নিষ্ঠুরতা বাংলাদেশে করেছেন, আর কেউ এমন নিষ্ঠুরতা করতে পারেননি।” তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী দলের কর্মসূচি দমন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার কারণে দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রিজভীর মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথকে শক্তিশালী করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রায়ের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পথ খুলবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয়করণ ও কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সকল পক্ষকে রায়ের আলোকে সমঝোতার পথে এগিয়ে আসতে হবে। রিজভী অভিযোগ করেন, অতীতের ভুল নীতি ও কঠোরতার কারণে মানুষ রাজনৈতিকভাবে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় ছিল। এখন রায়ের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
আকাশজমিন / আরআর