ক্রীড়া প্রতিবেদক
অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন পার্থে যা ঘটেছে তা গত ১০০ বছরের ইতিহাসেও দেখা যায়নি। একদিনে মোট পড়েছে ১৯টি উইকেট, যা অ্যাশেজের শতবর্ষী ইতিহাসে প্রথম দিনের সর্বোচ্চ উইকেট পতনের রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এমন ক্ষ্যাপাটে ও রোমাঞ্চকর দিনে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডান কার্স। তিনি বলেন, “কি দারুণ একটা দিন! যারা খেলা দেখতে এসেছে, তাদের পয়সা উশুল।”
দিনের প্রথম সেশনে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্ক। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড না থাকায় আক্রমণের নেতৃত্ব তাঁর কাঁধে পড়ে এবং তিনি সেই দায়িত্ব অসাধারণভাবে পালন করেন। বিধ্বংসী স্পেলে তিনি দখল করেন ৭ উইকেট। তাঁর আগুনে বোলিংয়ে মাত্র ৩২.৫ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ইতিহাস অনুযায়ী, অ্যাশেজে এর চেয়ে কম ওভার খেলেছিল ইংল্যান্ড মাত্র একবার, সেই ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৮৭ সালে।
স্টার্কের স্পেলে জ্যাক ক্রলি প্রথম বলেই ফেরেন। এরপর বেন ডাকেট, জো রুট, বেন স্টোকস, গাস অ্যাটকিনসন, জেমি স্মিথ ও মার্ক উড—পরপর সবাই হয়ে ওঠেন তাঁর শিকার। বিশেষ করে জো রুটকে আউট করে স্টার্ক অ্যাশেজে নিজের ১০০তম শিকারের মাইলফলক যুক্ত করেন। তিনি ১৩তম অস্ট্রেলিয়ান বোলার হিসেবে এই অর্জনে নাম লেখান। শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ডেনিস লিলির মতো কিংবদন্তিদের পাশে জায়গা করে নেওয়ায় তাঁর এই অর্জন বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় দিনের বাকি সময় ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তারাও ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে খুব বেশি টিকতে পারেনি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই জোফরা আর্চারের নিখুঁত ডেলিভারিতে ডেবিউ ব্যাটার ওয়েদারাল্ড শূন্য রানে আউট হন। এরপর আক্রমণে আসেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। দারুণ নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে তিনি তুলে নেন ৫ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার ইংলিশ পেসারদের বাউন্সার, শর্ট বল এবং সুইং—সবকিছুরই শিকার হয়। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ৩৯ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানে থামে। ফলে তারা ইংল্যান্ডের চেয়ে ৪৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবে।
প্রথম দিনেই দুই দলের বোলারদের আধিপত্যে ব্যাটসম্যানরা কোনোভাবেই নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেননি। উইকেট ছিল অত্যন্ত বাউন্সি, কঠিন গতি সামলাতে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভুল শট খেলেছেন ব্যাটাররা। উইকেটের আচরণ ছিল অনিশ্চিত, কখনো অতিরিক্ত বাউন্স আবার কখনো একেবারেই নিচু হয়ে আসছিল বল। ফলে বোলারদের সামনে ব্যাটারদের সংগ্রাম পুরো দিনজুড়ে স্পষ্ট ছিল।
এদিন টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া ইংল্যান্ড সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও তাদের বোলাররা যে দ্রুত ম্যাচে ফেরার শক্তি রাখে তা প্রমাণ করেছে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থ কেন হলো তা নিয়েও বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে।
অ্যাশেজ সিরিজের জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবসময়ই ক্রিকেটভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। আর প্রথম দিনেই ১৯ উইকেট পতনের নাটকীয়তা সিরিজের আগাম রোমাঞ্চের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল।
আকাশজমিন / আরআর