বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশে এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের তুলনামূলক অগভীর স্তরে। অগভীর উৎপত্তিস্থলের কারণে কাছাকাছি এলাকায় কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সে ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা কেঁপে ওঠে। শক্তিশালী ওই কম্পনে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং বহু ভবন ও স্থাপনায় ফাটল দেখা দেয়। বিশেষ করে পুরান ঢাকার কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এরই মধ্যে আবারও নরসিংদীতে ভূমিকম্প পরিস্থিতি মানুষের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে তারা উদ্বিগ্ন অবস্থায় ছিলেন; এর মধ্যেই শনিবার সকালের কম্পন তাদের আতঙ্কিত করে। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নরসিংদীতে আগের ভূমিকম্পে আহত এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে সবার সতর্ক থাকা জরুরি। পরবর্তী ঝুঁকি এড়াতে ভবনগুলো কাঠামোগতভাবে নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজকের ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে একটি সংশোধনীও প্রকাশ করা হয়েছে। শুরুতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আজকের ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সাভারের বাইপাইল বলে তথ্য দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছিল যে উৎপত্তিস্থল ছিল সাভারের বাইপাইল। তবে পরবর্তীতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পটির প্রকৃত উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ। সংশোধিত তথ্য পাওয়ার পর প্রতিবেদনও হালনাগাদ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ধারাবাহিক কম্পন ভূগর্ভে চাপ সঞ্চয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে ক্ষুদ্র মাত্রার ভূমিকম্প অনেক সময় বড় ধরনের ঝুঁকি হ্রাস করেও থাকে। তবুও জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার কথাও বলা হচ্ছে।
বর্তমানে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর