ঢাকায় পৌঁছানোর পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের সময় সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সফরের প্রথম দিনেই এ শ্রদ্ধা নিবেদনকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে এরপর তিনি ঢাকার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করেন।
এরই মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং পরিবেশ বিষয়ক নানা ইস্যুতে মতবিনিময় হয়। ভুটান দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ—এই বাস্তবতায় উভয় পক্ষই যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন।
তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভুটানের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, বিশেষ করে তাদের টেকসই উন্নয়ন ও সুখ সূচকভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার মডেলকে প্রশংসা করা হয়।
আজ শনিবার বিকেল ৩টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে শেরিং তোবগের একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে গভীর আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষত বাণিজ্য-বিনিয়োগ, জ্বালানি, জলবায়ু এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি আনুষ্ঠানিক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সরকারি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। নৈশভোজে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
এই সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও নতুন মাত্রা পাবে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।