ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আইসিইউ রোগীদের ৪১ শতাংশে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর: আইইডিসিআর


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:১২ পিএম

দেশের আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪১ শতাংশ কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেই সাড়া দিচ্ছে না—এমন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা বা এএমআর দেশে বিপজ্জনক হারে বাড়তে থাকায় সাধারণ সংক্রমণও এখন কঠিন ও জটিল হয়ে উঠছে।

সোমবার আইইডিসিআরের নতুন ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ন্যাশনাল এএমআর সার্ভেলেন্স রিপোর্ট ২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ড. জাকির হোসেন হাবিব। তিনি জানান, দেশে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অনিয়ম, চিকিৎসায় ভুল প্রয়োগ, নির্বিচারে প্রেসক্রিপশন এবং সহজলভ্যতার কারণে এএমআর দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মোট ৯৬,৪৭৭ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এসব নমুনায় ৭১ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যাচাই করে দেখা যায়, পাঁচটি আইসিইউতে নেয়া পরীক্ষার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

সব নমুনায় প্যান-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর) জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৭ শতাংশ। তবে আইসিইউ রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ভয়াবহ—৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, আইসিইউতে থাকা প্রতি ১০ জন রোগীর প্রায় ৪ জনের সংক্রমণে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করেনি।

অন্যদিকে, মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) জীবাণুর হার সব নমুনায় ছিল ৪৬ শতাংশ, আর আইসিইউতে এই হার ৮৯ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হার বিশ্ব মানের তুলনায় অনেক বেশি, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসাব্যবস্থাকে বড় সংকটে ফেলতে পারে।

এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তালিকাভুক্ত ওয়াচ-গ্রুপ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দেশে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পূর্বে এর ব্যবহার ছিল ৭৭ শতাংশ, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৯০.৯ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩ শতাংশ) এবং মেরোপেনেম (১৬ শতাংশ)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াচ-গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত হলে এএমআর-এর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

প্রফেসর হাবিব সতর্ক করে বলেন, “অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়মহীন ও অতিরিক্ত ব্যবহার দেশকে ভয়াবহ এএমআর ঝুঁকিতে ফেলেছে। এখন এটি শুধু চিকিৎসার সমস্যা নয়, বরং জাতীয় জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।” তিনি আরও বলেন, যেসব অ্যান্টিবায়োটিক আগে সহজ সংক্রমণে কার্যকর ছিল, এখন তা অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর। ফলে রোগীরা গুরুতর জটিলতায় পড়ছেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।

আইইডিসিআর জানায়, এএমআর রোধে জরুরি ভিত্তিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের যুক্তিসঙ্গত প্রেসক্রিপশন, হাসপাতালের অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রোগ্রাম এবং জনগণের স্বেচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে "পোস্ট-অ্যান্টিবায়োটিক যুগে" প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে, যেখানে সাধারণ সংক্রমণও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর