রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে কর্মীরা। আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ায় বস্তির নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বাসিন্দাদের বস্তির ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগুন না লেগে থাকা ঘরগুলো থেকে বাসিন্দারা দ্রুত তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র বের করার চেষ্টা করছেন। কেউ মাথায় করে, কেউ হাতে করে মালামাল সরাচ্ছেন।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার সব জিনিস আগুনে পুড়ে শেষ হয়েছে। সাত বছর ধরে বস্তিতে বসবাস করছি। অনেক কষ্টে কিনেছিলাম। মাসে মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। এখন সব শেষ হয়ে গেছে।
অন্য এক বাসিন্দা লাকি আক্তার, যিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন, বলেন, শুনেছি আমার ঘরও পুড়ে গেছে। সব জিনিস পুড়ে গেছে। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।
লাকি ও লাভলীর মতো অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। আজকের আগুনে তাদের অনেককে সড়কে বসতে হবে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন এখনও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে এবং ক্রমশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
মোট ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে পানি সংকট ও ঘনবসতি কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করতে শুরু করেছেন এবং আগুন নেভানোর পর পুনর্বাসনের জন্য সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই আগুনের ঘটনা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, শহরের বস্তিতে নিরাপত্তা ও সঠিক পানি সরবরাহের অপরিহার্যতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
আকাশজমিন / আরআর