অনলাইন রিপোর্টার
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে তিনি গত রোববার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, একাধিক দীর্ঘদিনের জটিল অসুস্থতা থাকায় তাঁর চিকিৎসা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। ফুসফুসের সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিউমোনিয়া। পাশাপাশি তাঁর কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা জটিলতা বাড়িয়েছে। একটি রোগের চিকিৎসায় অগ্রসর হলেই অন্য অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা প্রতিদিন বৈঠক করে তাঁর চিকিৎসা দিচ্ছেন। পরিবার ও সম্পর্কিত সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া যায় কি না, সে নিয়ে আলোচনাও চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও গতকাল শুক্রবার সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মির্জা ফখরুল সেখানে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা জানিয়েছেন ম্যাডামের অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। এ পরিস্থিতিতে আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়া করছি এবং দেশবাসীকেও দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁরা সিসিইউতে প্রবেশ করেননি, তবে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমীর খসরু জানান, ‘আমরা দূর থেকে দেখে এসেছি। ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকায় সিসিইউতে যাওয়া যায় না। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি নেই।’
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক খালেদা জিয়ার অবস্থার খোঁজ রাখছেন। জুবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবেও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানও শাশুড়ির সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর তা ছয় মাস অন্তর বাড়ানো হয়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। গণ–অভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান এবং চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যান। চার মাস পর তিনি দেশে ফেরেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন, এ দফায় হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই সারা দেশে দোয়া ও মোনাজাত হচ্ছে। গতকাল জুমার নামাজ শেষে রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদে তাঁর রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
আকাশজমিন / আরআর