অনলাইন রিপোর্টার
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এটি মামলার তদন্ত সংস্থার ১২২তম বার প্রতিবেদন দাখিলের সময়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারায় আদালত নতুন দিন ধার্য করেছেন। মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া করা একটি বাসায় সাংবাদিক দম্পতি—মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি—খুন হন। হত্যাকাণ্ডের পর মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর দীর্ঘ তদন্তের পরও মামলার কোনো চূড়ান্ত ফলাফল হয়নি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য টাস্কফোর্সকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়।
তদন্তের নির্ধারিত সময় ইতোমধ্যেই শেষ হলেও, রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে যে তদন্ত এখনও চলছে এবং অগ্রগতি আছে। এজন্য তারা ৯ মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। আদালত এই আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন দিন ধার্য করেছে।
মামলার দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে সাংবাদিক ও সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশিত হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন, হত্যাকারীদের ধরতে দীর্ঘ সময় নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের পরই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
মৃত সাংবাদিক দম্পতির পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ২০১২ সালের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অনেক বছর পার হলেও অপরাধীরা এখনও বিচারের মুখোমুখি হয়নি।
সাম্প্রতিক সময় দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা এবং উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সাংবাদিকদের প্রতি হুমকির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই এই মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিবেদন দাখিল সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আকাশজমিন / আরআর