ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

চুয়াডাঙ্গায় ফুলকপি চাষে বাম্পার লাভ


  • আপলোড সময় : রবিবার ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:০৭ পিএম

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 

চুয়াডাঙ্গার মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজি মৌসুমে ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। এবারের বাজার দর ভালো হওয়ায় গত বছরের লোকসান পুষিয়ে কৃষকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে প্রায় ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ফুলকপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে। বাজারে আগাম সরবরাহ এবং ভালো চাহিদার কারণে কৃষকরা এবার সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন। বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনেকে ৮০ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে চাষ করে আমার খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছি এক লাখ ২০ হাজারে। গত বছরের ক্ষতি এবারে পুরোপুরি উঠে গেছে। দাম ভালো থাকলে আগামীতে আরও জমিতে ফুলকপি চাষ করব।

গাড়াবাড়িয়া বাগানপাড়ার কৃষক মোহাম্মদ হাসানুর রহমান জানান, সাত বিঘা জমিতে চাষ করেছি। প্রতি বিঘা দিয়েছি এক লাখ ১০ হাজারে। খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। গতবছর যেখানে ৬০-৭০ হাজারে বিক্রি করেছিলাম, এ বছর এক লাফে দাম বেড়েছে অর্ধ লাখ টাকা।

তরুণ চাষি মোহাম্মদ আরাফাত, যিনি ছাত্রত্বের পাশাপাশি বাবার খামার দেখাশোনা করেন, বলেন, তিন বিঘা জমিতে আগাম কপি বিক্রি করেছি এক লাখ ২৫ হাজারে। এখন সাধারণ কপির দাম ৮০-৯০ হাজারে চলছে। খরচ বাদেও ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।

গাড়াবাড়িয়ার আরেক কৃষক মোহাম্মদ শাহজান আলী বলেন, এবার আবহাওয়া খুবই অনুকূলে ছিল, তাই ফলন দারুণ হয়েছে। আগাম কপি বিক্রি করেছি ১ লাখ ২০ হাজারে। খরচ ৩০-৩৫ হাজার, লাভ পেয়েছি ৬০-৭০ হাজার। গত বছরের লোকসান এবারে পুরো ঘুচে গেছে।

ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান জানান, গতবারের তুলনায় এবারের চাহিদা ভালো। বাজারে সরবরাহও বেশি। ফলন ভালো হওয়ায় পাইকাররা লাভবান হচ্ছেন, আর কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, চুয়াডাঙ্গা সবজি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান জেলা। এবারের শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৬৪০ হেক্টর, যার মধ্যে ৭ হাজার ২২৮ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি ১ হাজার ৪৯৪ হেক্টর। ফলন ও দাম উভয়ই ভালো, কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আমরা নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজারজাতকরণে পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক সময়ে বাজার ধরলে লাভ আরও বাড়বে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর