ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি, এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:৩৩ এএম

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া গতকাল রোববার অল্প নড়াচড়া করতে পেরেছেন এবং কথাবার্তায়ও সাড়া দিয়েছেন। চিকিৎসক এবং বিএনপির নেতৃস্থানীয় কয়েকটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, গত দুই দিনে তাঁর অবস্থায় কিছুটা ভালো লক্ষণ দেখা গেলেও তিনি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, পরিবার ও দলের উদ্বেগের পরও এখনো তাঁকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চিকিৎসকেরা বলছেন, বিদেশে নেওয়ার আগে দীর্ঘ ফ্লাইট, যাত্রাপথের ধকল ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সেই ঝুঁকি নেওয়ার মতো স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছেনি। এই মুহূর্তে চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য হলো—দেশেই তাঁকে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দিয়ে শারীরিক অবস্থাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে ফেরানো।

গতকালও তাঁর কিডনির ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। তবে তিনি এখনো স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছেন না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁর পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। লিভারের সংকট, কিডনি কর্মক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে পানি জমা—এসব উপসর্গ একসঙ্গে থাকার কারণে চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

শারীরিক অবনতির কারণে কয়েক দিন আগে তাঁকে আইসিইউ সমমানের হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাঁর অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন। খালেদা জিয়ার কিডনির জটিলতা, শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে গত কয়েক দিন ধরে চিকিৎসকেরা বিশেষ সমন্বিত চিকিৎসা দিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বিএনপির নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন শনিবার রাতে এক ব্রিফিংয়ে জানান, চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যত দ্রুত সম্ভব বিমানযাত্রার উপযোগী করে তোলাই এখন চিকিৎসকদের অন্যতম লক্ষ্য। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবার এখনো চেষ্টা করছে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে। তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান বিষয়টি তদারক করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে সব সিদ্ধান্তই নির্ভর করছে চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ও পরামর্শের ওপর।

প্রতিদিনই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভিড় এড়াতে দলীয়ভাবে নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা হাসপাতালে না জড়ো হয়ে পরিস্থিতি জটিল না করেন।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপি তাদের ঘোষিত ‘বিজয় মশাল রোড শো’ কর্মসূচি স্থগিত করেছে। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচিটি আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে জীবন-সংগ্রামে রয়েছেন। তাঁর গুরুতর অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীরাই নয়, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।’

বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি গত শনিবার সারা দেশে দুই সপ্তাহব্যাপী বিজয় মশাল রোড শো কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে ১ ডিসেম্বর এটি শুরু হয়ে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ ঘুরে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মহাসমাবেশের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে মাত্র এক দিনের মাথায় তা স্থগিত করা হয়।

২৩ নভেম্বর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। এরপর বিএনপির মহাসচিব কয়েক দিন আগে বলেন, তাঁর অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক’। পরদিন আবার জানান, বিদেশে নেওয়ার মতো স্থিতিশীল অবস্থায় তিনি এখনো পৌঁছাননি।

গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আজ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি।” বর্তমানে পুরো দলই তাঁর সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর