ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

রেহানা ৭ বছর, হাসিনা ৫ বছর, টিউলিপ ২ বছরের সাজা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১২:১১ পিএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত আজ রায় ঘোষণা করেছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই মামলায় তার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকী আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় আদালত উল্লেখ করেছেন, রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগ অনুসারে, এই প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে স্বতন্ত্র নথি ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। আদালত সব প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদান করেছেন।

দুদকের তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্লটগুলোতে সুবিধা নেওয়ার জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা প্রশাসনিক ও আর্থিক ঘাটতিগুলোকে কাজে লাগিয়ে অনিয়ম করেছেন।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সরকারের প্রকল্পে অনিয়ম নয়, বরং সাধারণ জনগণের অধিকার ও প্রকল্পের স্বচ্ছতা বিনষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। আদালত সুনির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন, কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নিলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হবে।

রায়ের পরে আদালত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হবে।” আদালতের এ রায়কে জনসাধারণ, বিশেষত প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্তরা নজরদারিতে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় বিস্তারিত তদন্তে প্রমাণ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আদালত সব তথ্য বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাদণ্ড ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালত আজকের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো অবস্থাতেই সহনীয় নয়। এই রায় দেশের নাগরিকদের মধ্যে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে।

আদালতের রায়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই রায় যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর