ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রেহানা ৭ বছর, হাসিনা ৫ বছর, টিউলিপ ২ বছরের সাজা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১২:১১ পিএম

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালত আজ রায় ঘোষণা করেছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই মামলায় তার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকী আসামিদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় আদালত উল্লেখ করেছেন, রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগ অনুসারে, এই প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে স্বতন্ত্র নথি ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। আদালত সব প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রদান করেছেন।

দুদকের তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্লটগুলোতে সুবিধা নেওয়ার জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা প্রশাসনিক ও আর্থিক ঘাটতিগুলোকে কাজে লাগিয়ে অনিয়ম করেছেন।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সরকারের প্রকল্পে অনিয়ম নয়, বরং সাধারণ জনগণের অধিকার ও প্রকল্পের স্বচ্ছতা বিনষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। আদালত সুনির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন, কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নিলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হবে।

রায়ের পরে আদালত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হবে।” আদালতের এ রায়কে জনসাধারণ, বিশেষত প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্তরা নজরদারিতে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় বিস্তারিত তদন্তে প্রমাণ ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আদালত সব তথ্য বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাদণ্ড ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালত আজকের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনো অবস্থাতেই সহনীয় নয়। এই রায় দেশের নাগরিকদের মধ্যে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে।

আদালতের রায়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই রায় যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর