সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণার পর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) তার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফ সদস্যরা তার নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, সরকারের ঘোষণার পরপরই এসএসএফের সদস্যরা দায়িত্ব নিতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন।
বেলা দুইটার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এসএসএফ সদস্যদের বহনকারী গাড়ি ঢুকতে দেখা যায়। খালেদা জিয়া বর্তমানে এই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। গত ১০ দিন ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতির কারণে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা সতর্ক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়া এখনো চিকিৎসা নিতে পারছেন এবং চিকিৎসা মেইনটেন করতে পারছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা দলের পরামর্শে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় আরও জোরদার পর্যবেক্ষণ চলছে। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য থেকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেশে পৌঁছাবেন বলেও তিনি জানান। এই বিশেষজ্ঞ খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক জটিলতা মূল্যায়ন করে চিকিৎসা পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জাহিদ হোসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা—বিশেষ করে লিভার, কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সমস্যা—দ্রুতগতিতে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। তার শরীরে বিভিন্ন চিকিৎসাগত জটিলতা একসঙ্গে প্রভাব ফেলছে বলে জানানো হয়েছে। এসব কারণে তাকে আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং এই অবস্থায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা তাদের জন্য উদ্বেগজনক। দলের শীর্ষ নেতারা নিয়মিত হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আপডেট নেন। তারা বলছেন, এসএসএফ নিরাপত্তা যুক্ত হওয়ায় তার চিকিৎসা পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করছেন।
এসএসএফের দায়িত্ব গ্রহণকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রটোকল অত্যন্ত কঠোর এবং বহুমাত্রিক হয়। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও চলাচলের প্রতিটি ধাপই জাতীয় গুরুত্বের আওতায় বিবেচিত হয়। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা চলছে। যুক্তরাজ্য থেকে আগত বিশেষজ্ঞ যুক্ত হলে তার চিকিৎসা পরিকল্পনা আরও আপডেট হতে পারে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এতদিন ধরে চলমান জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিদেশে নেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এসএসএফের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসা পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হলো কি না—এখন সেদিকেই নজর দেশের মানুষের।
আকাশজমিন / আরআর