ডিসেম্বর মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে আবারও বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপি গ্যাস) এর দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে, যা সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২১৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অটোগ্যাসের দামও ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সৌদি সিপি (Contract Price) অনুসারে প্রতি মাসে এলপিজির দাম পরিবর্তনের নিয়ম থাকায় দেশের বাজারেও ওঠানামা অব্যাহত থাকে।
এলপিজির এই নতুন মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ পরিবার থেকে শুরু করে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের গৃহস্থালি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক পরিবার রান্নার খরচ সামাল দিতে আগে থেকেই নাজেহাল; সেখানে নতুন মূল্য তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে রাজধানী ও শহরাঞ্চলে যারা নিয়মিত এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের মাসিক ব্যয় সরাসরি বেড়ে যাবে।
অন্যদিকে অটোগ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতেও প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার চালকদের মধ্যে নতুন দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। অটোগ্যাস সাধারণত পেট্রোল ও ডিজেলের তুলনায় সস্তা হওয়ায় অনেক পরিবহন মালিক এটি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেন। দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এর প্রভাব ভাড়ায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এর আগে নভেম্বর মাসে এলপি গ্যাসের দাম ২৬ টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে অটোগ্যাসের দামও ১ টাকা ১৯ পয়সা কমিয়ে ৫৫ টাকা ৫৮ পয়সা করা হয়েছিল। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবারও মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
এলপিজির নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর খুচরা বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক বিক্রেতা জানান, মূল্য বৃদ্ধি হলে বাজারে সিলিন্ডার কেনাবেচার চাপ দেখা যায়। কেউ কেউ আগের দামে স্টক করা সিলিন্ডার দ্রুত বিক্রি করতে চান, আবার কেউ কেউ নতুন দামের নির্দেশনার অপেক্ষা করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় এলপিজির দাম আরও কিছুদিন ওঠানামা করবে। তারা বলেন, দেশীয় উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানিনির্ভর বাজারে বড় ধরনের দামের নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন। এ কারণে প্রতি মাসে দামের পরিবর্তন পরিবারগুলোর বাজেটকে নড়বড়ে করে দেয়।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই এলপি গ্যাস ও অটোগ্যাসের নতুন মূল্য বাড়ানো ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ হিসেবে সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
আকাশজমিন / আরআর