অনলাইন রিপোর্টার
ক্ষমতায় গেলে জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো অবাস্তব বা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (০২ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। ক্ষমতায় গেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না যা মানুষকে উদ্বেগে ফেলবে বা দৈনন্দিন জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত, বাজারব্যবস্থা ও ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প শুধু ব্যবসা নয়, মানুষের জীবনরক্ষার সঙ্গে জড়িত। তাই এই খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই খাতকে আরও শক্তিশালী, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমান (আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) বলেন, “রাষ্ট্রের নীতি হতে হবে জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণে। কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং মানুষের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা এগোতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। বাজারে অস্থিতিশীলতা, হঠাৎ সিদ্ধান্ত এবং নীতির অসঙ্গতি ব্যবসায়িক পরিবেশকে নাজুক করে তোলে। তাই জনগণকে অন্ধকারে রেখে বা পূর্বঘোষণা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না—এই অঙ্গীকার স্পষ্ট করে দেন তিনি।
মিরপুরে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিভিন্ন পর্যায়ের ওষুধ ব্যবসায়ী, ডিস্ট্রিবিউটর ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। তারা ব্যবসায়িক পরিবেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, বাজারে ওষুধের ন্যায্যমূল্য, ভেজাল প্রতিরোধ এবং নীতিগত সহায়তা বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানান, নীতিগত সমন্বয়হীনতা এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে তারা দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা ও ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশের দাবি জানান। ডা. শফিকুর রহমান তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভবিষ্যতে নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব। “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে মানুষের কল্যাণে, দেশের উন্নতি ও স্থিতিশীলতার জন্য,” যোগ করেন তিনি।
আকাশজমিন /আরআর