জুলাই মাসে ছাত্র ও জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০৬টির চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে ৩১টি হত্যা মামলা এবং অপর ৭৫টি বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলা। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে চার্জশিটকৃত ৩১টি হত্যা মামলা দেশের বিভিন্ন জেলার। এর মধ্যে রয়েছে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, কুড়িগ্রাম ও শেরপুর জেলা। এছাড়া পিবিআই, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও কিছু হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। এসব মামলার বেশিরভাগই অভ্যুত্থানের সময়কার সহিংসতা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং হামলার ঘটনায় দায়ের করা হয়েছিল।
এ ছাড়া অন্যান্য ধারার ৭৫টি মামলার চার্জশিটও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা বিভিন্ন জেলায় দায়ের হয়—পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং বরগুনা। পাশাপাশি পিবিআই, সিআইডি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশও এসব মামলার তদন্তে যুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের করা প্রত্যেকটি মামলার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি তদারকি করছেন। কোনও অভিযোগ যেন তদন্তে উপেক্ষিত না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে। একই সঙ্গে এখনো যেসব মামলা তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এদিন আরও জানানো হয় যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(এ) ধারায় বৈষম্যবিরোধী ৪৩৭টি মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মোট ২ হাজার ৮৩০ জনকে অব্যাহতির জন্য আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশই গণঅভ্যুত্থানের সময় সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে সংঘটিত অভিযোগ থেকে উৎপত্তি হয়েছিল। তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় এবং আইনি বৈধতা বিবেচনায় অনেককে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, জুলাইয়ের ঘটনার পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসব মামলার তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে যেসব মামলার চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোতে দোষীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। বাকি মামলার তদন্তও দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আকাশজমিন / আরআর