ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

সিদ্ধান্ত নির্ভর চিকিৎসা বোর্ডের মতামতে

মায়ের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তীব্র'—তারেক রহমান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৩৭ পিএম

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা আছে কি না—তা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তিনি (তারেক রহমান) শিগগিরই দেশে ফিরবেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলেও একই কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। রোববার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ বেড়েছে। এরপর চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অবস্থা আরও খারাপ হয়।

আজ যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা দেখবেন এবং যদি মনে করেন যে তিনি ট্রান্সফারেবল, তখন বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’ এর আগে জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে প্রায় চার মাস অবস্থান করেছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন তিনি।

২০০৮ সালে এক–এগারোর পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর আর দেশে ফেরেননি। বিদেশেই অবস্থান করে তিনি দলের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে তাঁর বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হয়। এরপর থেকেই তাঁর দেশে ফেরার আলোচনা জোরালো হয়। তবে সুনির্দিষ্ট দিন–তারিখ জানাতে পারেননি বিএনপির নেতারা।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির পর গত শুক্রবার থেকেই তারেক রহমানের দ্রুত ফেরা নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মাঝে গত শনিবার লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, ‘এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমারও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আমার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’ রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে এলে দ্রুত দেশে ফিরবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে—তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। গত সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, তাঁর ইচ্ছা থাকলে এক দিনের মধ্যেই ‘ট্রাভেল পাস’ দেওয়া হবে এবং পরদিনই দেশে ফিরতে পারবেন। আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে কারও নিরাপত্তাঝুঁকি নেই এবং সরকার সবাইকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর